আমাদের ভারত, ৮ সেপ্টেম্বর: বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় তৃতীয়বার ক্ষমতা দখলের পরেও নিজে মুখ্যমন্ত্রী হতে চাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি চেয়েছিলেন দলের অন্য কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক। আর তিনি তৃণমূলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে সব রকম সাহায্য করে যাবেন। বুধবার দলের কর্মিসভায় এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলেও ফলাফল ঘোষণার দিন দেখা যায়, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন। যদিও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে আদালতে গেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই সমস্ত বিতর্কের জন্য তিনি সেইসময় মুখ্যমন্ত্রী হতে চাননি।
কর্মিসভায় সুব্রত বক্সীকে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “আমি যদি বলি বক্সি দা আমার সঙ্গে ঝগড়া করবেন। আমি ওদের বললাম ছেড়ে দিন না কি দরকার? আমি তো এতদিন করলাম, আপনারা করুন। আমি সবটা করে দেবো। বললে না হবে না। সবার জন্য এক ব্যক্তি একপদ আর আমার জন্য বলবে চেয়ারম্যানও থাকতে হবে, আবার মুখ্যমন্ত্রীও থাকতে হবে। আমি বললাম কেন আমার সঙ্গে বিভেদ কেন? সে ওরা শুনবে না। জিজ্ঞেস করুন সামনা সামনি বলছি।”
কার্যত আজ মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চাইলেন, নিজের ইচ্ছায় নয়, বরং দলের শীর্ষ নেতাদের জোরাজুরিতেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হতে হয়েছে।
কর্মীসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রটি ফাঁকা করার জন্য শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ভবানীপুর থেকে শোভনদেবকে কেন প্রার্থী করা হয়েছিল তার ব্যাখ্যা দেন তিনি। মমতা বলেন, আমি ভাবলাম শোভনদা এত পুরনো ছেলে চিরকাল এই এলাকায় থাকেন। ভেবেছিলাম শোভনদা এবার নিজের এলাকায় লড়ুক। তাছাড়া দেবাশীষ কুমারের প্রতি আমার একটা কমিটমেন্ট ছিল। তাই শোভনদার সিটটা দেবাকে দিয়ে নিজে ষড়যন্ত্রের বলি হই। কিন্তু মনে রাখবেন আমি সবাইকে নিয়ে চলি। এটা আমার পরিবার। আগামী দিনে শোভনদা লড়াই করে জিতে আসবেন ও রাজ্যে মন্ত্রীও থাকবেন।

