Mamata, Gyanesh, IAS, জ্ঞানেশকে চিঠি দিয়েও লাভ হলো না মমতার, একাধিক আইএএস’কে পাঠানো হলো রাজ্যের বাইরে

আমাদের ভারত, ১৯ মার্চ: এবার বিধানসভা ভোটের আগেই বোঝা গিয়েছিল নির্বাচন কমিশন পুরনো সব ছক ভেঙে দিতে পারে। কমিশন যে প্রশাসনিক রদবদলের দিকে এগোচ্ছে তাও স্পষ্ট হয়েছিল। বুধবার অর্ধেকেরও বেশি জেলা ডিএম’দের বদল করেছে কমিশন।

নিয়ম অনুযায়ী তাদের নতুন পোস্টিং দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই পোস্টিং- এর পর কমিশন পাঁচজন আইএএস অফিসারকে বাইরের রাজ্যে অবজারভার হিসেবে পাঠিয়ে দিল। পাঁচজন ডিইও প্রীতি গোয়েল, রানী আয়েশা, অরবিন্দ কুমার মিনা, শিয়াদ এন এবং শমা পারভিন সহ পঞ্চায়েত সচিবকে ভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে আইপিএস’দের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল আইএএস বা ডিও’দের ক্ষেত্রেও তাই হলো।

মোট তিন দফায় তামিলনাড়ু যেতেই হবে আধিকারিকদের। প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে গিয়ে থাকতে হবে অন্তত এক সপ্তাহ। দ্বিতীয় দফায় যেতে হবে ৩০ মার্চ। থাকতে হবে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত। তৃতীয় দফায় যেতে হবে কাউন্টিং- এর দুদিন আগে।

বুধবার কমিশনের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় এই রদবদলের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।

রবিবার বাংলার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বিস্তর বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সিপি, ডিজি, ডিআইজি থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিককে বদলে দিয়েছে তারা।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিক চিঠি দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কোনো লাভই হয়নি। উল্টে দেখা গেল চিঠি বা সোশ্যাল পোস্টের পর রাতারাতি আরো বদল করেছে কমিশন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারকে দ্বিতীয় যে চিঠি লিখেছেন তাতে উল্লেখ করেছেন, প্রশাসনের শীর্ষস্থানে যেভাবে গণ-বদল এবং আধিকারিকদের সরানোর প্রক্রিয়া চলছে তা একপাক্ষিক নয়, বরং রাজ্যে প্রশাসনিক কাঠামোর উপর এক গুরুতর আঘাত।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ইদানিং কালে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি সৌজন্যে সমস্ত সীমা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন প্রক্রিয়া চলাকালীন যে ধরনের পদক্ষেপ কমিশন করছে তাতে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের ছায়া দেখছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কমিশন বাস্তবের সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং
জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কাজ করছে।

গত সোমবার তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কমিশনের ওই পদক্ষেপকে একতরফা এবং অভূতপূর্ব বলে অভিযোগ করেছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *