আমাদের ভারত, ২ ফেব্রুয়ারি: নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়েই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রকাশ্যে ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। তাদের অভিযোগ ইআরও, এসডিও ও বিডিও-দের অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কমিশনের বৈঠক নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন নির্বাচন কমিশন। তাদের স্পষ্ট কথা, এসআইআর- এ কারো হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করে কমিশনের তবফে বলা হয়েছে, কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রকাশ্যে ভয় দেখাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়করা। ইআরও, এসডিও ও বিডিওদের অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে।
একটি বিবৃতি জারি করে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল আজ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন ও এসআইআর নিয়ে কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন তারা। জ্ঞানেশ কুমার সেই প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে বা আইন ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নস্যাৎ করে কমিশন পাল্টা অভিযোগ করে বলে, তৃণমূল বিধায়করা কমিশনের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষা প্রয়োগ করছেন, হুমকি দিচ্ছেন। বিডিও অফিস ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর- এর কাজে নিযুক্ত কর্মকর্তাদের ওপর কোনো চাপ, বাধা বা হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। সেখানে আরো জানানো হয়েছে, বিএলও’দের ১৮ হাজার টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে সাত হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
কমিশন আরো বলেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করে তিনজন নির্বাচনী তালিকাভুক্ত পযবেক্ষককে বদলি করেছে বলে অভিযোগ করেছে। নির্বাচন কমিশন ২৭ জানুয়ারি বদলি আদেশ বাতিলের জন্য অনুরোধ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া সরকারকে চার কর্মকর্তা এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে বলেছিল তাও করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। জমিদারি আচরণের অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ওরা উদ্ধত্য, অহংকারী ও মিথ্যাবাদী।
কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে রবিবার দিল্লি পৌঁছেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে অভিষেক সহ দলের অন্যান্য সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে এসআইআর- এ ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে নির্বাচন সদনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ঘন্টার বেশি সময়ের বৈঠকের পর বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের কাছে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, কেন বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে?কমিশনকে অহংকারী ও মিথ্যাবাদী বলে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এরকম দুর্ব্যবহার আমাদের সঙ্গে কেউ কখনো করেনি। আমাদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন, ওনার বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ জানেন কিনা। লাল কৃষ্ণ আদবানীকে এসআইআর- এর সম্মুখীন হতে হবে কিনা?
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারকে বয়কট করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা আলোচনা করে আগামীকাল জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

