আমাদের ভারত, ৩০ মার্চ: হুইল চেয়ারই তার নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে এযাবৎকালে। হুইলচেয়ারে একের পর এক সভা, মিছিল রোড শো করে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এবার ভোটের প্রচারের মধ্যেই সেই হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হ্যাঁ মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ার তৃণমূলের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জাতীয় সংগীত গাইবেন বলে নিজেই হুইল চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াবেন বলে জানান। এরপরেই তিনি হুইল চেয়ার থেকে ওঠার চেষ্টা করেন নিজে নিজেই। তাতে তড়িঘড়ি এগিয়ে আসেন মঞ্চে উপস্থিত থাকা সুব্রত বক্সী, জয়া দত্ত, দোলা সেনরা। সবাই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন একটু চেষ্টা করি। আর তারপরেই তিনি কার্যত এক পায়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতে গলা মেলান।

১০ মার্চ নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারের কাছে নিজের গাড়ি থেকে জনসংযোগ করার সময় আহত হন মমতা। জানা যায় তার পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। দিন কয়েক হাসপাতালে থাকেন তিনি। প্লাস্টার হয় তার পায়ে । এরপর তিনি হুইলচেয়ারে বাড়ি ফেরেন।
কিন্তু ভোটের প্রচারের সময় তিনি বাড়িতে বসে থাকতে পারবেন না বলে জানান ও হুইল চেয়ারে বসেই একের পর এক জেলা সফরে বেরিয়ে পড়েন। গেরুয়া শিবির তথা বিরোধীরা কটাক্ষ করে বলেন সহানুভূতির ভোট কুড়োনোর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাটক করছেন। তবে তাতে থেমে যাননি তৃণমূল সুপ্রিমো। হুইল চেয়ারে বসেই একের পর এক পদযাত্রাতেও সামিল হন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার হুইল চেয়ারে বসে টেঙ্গুয়ার সভায় গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় এলেই উঠে দাঁড়াতে চান বলে জানান। মমতায় সেইমতো হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে উদ্যত হন। সুব্রত, জয় এবং দোলাদের সাহায্যে হুইলচেয়ার থেকে প্রথমে ডান পা নামান এরপর বাঁ পাও আস্তে আস্তে নিচে নামান। বা তারপর হুইল চেয়ারের হাতলে ভর দিয়ে ডান পায়ে উঠে দাঁড়ান তিনি। সেই অবস্থাতেই কার্যত এক পায়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

