জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ সেপ্টম্বর: ‘বাংলার মানুষ বাংলার মেয়েকে চাইছেন না। নন্দীগ্রামে হেরেছেন, আবারও হারতে পারেন। উত্তরাখন্ড, বিহার, তামিলনাড়ুতে নজির রয়েছে, হেরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্থফা দিয়েছে। তাই এখানেও হেরে গেছেন, তাই চুপচাপ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। সোমবার দুর্গাপুরে চিকিৎসাধীন দলীয় কর্মীকে দেখতে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে এমনই খোঁচা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একইসঙ্গে বাংলায় অমানবিক সরকার চলছে বলে তোপ দাগেন তিনি।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে দুর্গাপুর ৪২ নং ওয়ার্ডে দলীয় কর্মী ঝর্ণা দাস ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয় বলে অভিযোগ। অপমান করে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর অপমানে দুর্গাপুর ব্যারেজের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিনি। সোমবার তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় তিনি আক্রমন করেন। তিনি বলেন,” একটা পরিবার ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে অপমানিত হয়েছে। বের করে দেওয়া হয়েছে। যেভাবে অপমান করা হয়েছে, সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করল। ২০১৭ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ির আবেদন করছে। তাকে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে না। অপরাধ বিজেপি করে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন পশ্চিমবাংলায় মানুষের থাকার অধিকার নেই। কতটা অমানবিক হতে পারে একটা রাজ্য সরকার এই ঘটনা তা প্রমান করে।”
এদিন তিনি রাজ্যে রেশন ডিলারদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, “দুয়ারে রেশন করে বেসরকারি করে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। বেসরকারি হাতে দিয়ে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা বুঝে নেবেন। আর এদিকে গরিব মানুষ কাজে গেলে, ওইসময় দুয়ারে রেশন দিতে গিয়ে ওই পরিবারকে নাও পেতে পারে। বার বার ওই পরিবারে যাবে না। ফলে ওই গরিব পরিবার রেশন পাবে না। আবার রেশন ডিলারদের মার্জিন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু হলে পার্টির নেতারা চাল তুলে নিয়ে যায়। কোথা থেকে পাবে ডিলাররা। চাল দেবে, পয়সা দেবে। মারও খাবে। তাই তারা প্রতিবাদ করছে।” এদিন আবারও নির্বাচন কমিশনকে এক হাত নিয়ে তিনি বলেন, “মমতা ব্যানার্জিকে সুযোগ করে দিতেই তিন আসনে নির্বাচন। যদি হেরে যায়, পরে বাকি চার আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “৫০০ টাকা লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য মহিলারা সকাল থেকে রাত রাস্তায় লাইন দিচ্ছেন। শিক্ষকদের দাবি জানাতে গিয়ে বিষ খেতে হচ্ছে।” তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষ বাংলার মেয়েকে চাইছেন না। নন্দীগ্রামে হেরেছেন, আবারও হারতে পারেন। হেরে গেছেন, তাই চুপচাপ পদত্যাগ করা উচিত।”
অন্যদিকে বিজেপি কর্মীর হেনস্থাকে মিথ্যা অভিযোগ বলে দাবি করেছেন দুর্গাপুর ৪২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রিয়াঙ্কি পাঁজা। তিনি বলেন, “৩০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে ওইদিন। অনেক লোক ছিল। একজন মহিলাকে গলাধাক্কা দিলে কেউ তো প্রতিবাদ করত। কেউ তো ছবি তুলে রাখত। তার কিছু ঘটেনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এধরনের নাটক করছে ওই মহিলা।”

