আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৫ মে: এবার অভিশপ্ত ‘বগটুই’ হতে চলেছে মডেল গ্রাম। মালদা থেকে ট্রেনে ফেরার পথে রামপুরহাট স্টেশনে ক্ষণিকের সাক্ষাৎকারে দলের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মিকে এমনটাই জানিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় খুশি বগটুই গ্রামের মানুষদের একাংশ।
প্রসঙ্গত, গত ২১শে মার্চ রাত সাড়ে আটটা নাগাদ রামপুরহাট বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, তৃণমূল নেতা ভাদু শেখকে। সেই খুনের ঘটনার বদলা নিতে, শিশুসহ ১০ জন মহিলাকে খুন করে পুড়িয়ে মারা হয়। প্রাণ যায় এক নিষ্পাপ শিশুর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতি। হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকা পরিদর্শন করতে এসে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মোট ১০ জনের হাতে এই চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এখনও এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে কেদ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। আপাতত শান্ত বগটুই গ্রাম, কিন্তু মাঝে মাঝে যেন রাজ্য রাজনীতির আখড়া হয়ে উঠছে বীরভূমের এই অভিশপ্ত গ্রাম। মর্মান্তিক ঘটনার বর্ষপূর্তিতে মৃতদের শহিদ বেদি বানানো নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা যায় শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে। তারপরই স্বজন হারা মিহিলাল শেখ, ফটিক শেখ, যাদের বাড়ির ৫ জন সদস্য খুন হয়েছিল সেই রাতে, তারা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করে। সেই খবর সংবাদ মাধ্যমে আসতেই ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাটে বীরভূমের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রশ্ন করেন, কেন বগটুইয়ের স্বজনহারারা বিজেপিতে যোগ দিল? শুধু তাই নয়, রামপুরহাটের বিধায়ক রাজ্যের ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে বর্ষপূর্তির দিন বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন স্বজনহারাদের পরিবার। তারপর গত ২৫ এপ্রিল বগটুই গ্রামে সভা করেন রাজ্যের নগরউন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই সভায় আসা বগটুইয়ের গ্রামবাসীদের হাতে “দিদি আমরা তোমার সঙ্গে আছি” লেখা পোস্টার দেখা যায়। সেই বার্তা পেয়েই ট্রেন থেকেই বগটুই’কে মডেল গ্রাম করার কথা জিম্মিকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে যা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে অনেকেই।
সাগরদিঘি ভোটের হারের পর সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে চিন্তায় আছে শাসক দল। বগটুই গ্রামের স্বজনহারার পরিবারদের বিজেপিতে যোগদান, তাহলে কি আস্থা হারাচ্ছে সংখ্যালঘুরা। হয়তো সেই ভরসা ফিরে পেতেই বগটুই হতে চলেছে মডেলগ্রাম। শুধু অপেক্ষা ঘোষণার। জিম্মি জানান, মডেল গ্রাম ঘোষণার পরেই রাস্তাঘাট উন্নত করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধূলোর মানোন্নয়ন করা হবে”।
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে বিশ্বাস নেই স্বজনহারা মিহিলাল শেখের। তিনি বলেন, “এর আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কোনোটাই পূরণ হয়নি”। এদিন মুখ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের জানিয়ে যান, যদি দুর্যোগ হয় তাহলে অভিষেকের সভা কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। একই সঙ্গে এদিন নিজের জন্মভিটে রামপুরহাট স্টেশনে দাঁড়িয়ে মামার বাড়ির খোঁজখবর নেন। কোন মন্দিরের কি অবস্থা জানতে চান। রামপুরহাট শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে মুখ্যমন্ত্রীর বাবা একটি ঘর কেনেন। কিন্তু সেই বাড়িতে থাকাই হল না বলে ব্লক সভাপতি জিম্মির সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে উষ্মা প্রকাশ করেন।

