পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ১২ এপ্রিল: ভোট প্রচারে মাইলেজ পেতে দুর্গারূপী মমতার হাতে অসুররূপে মোদী বধের বিতর্কিত মূর্তি হিলিতে। শান্তিপূর্ণ এলাকায় অশান্তি ছড়াতেই তৃণমূলের এমন পরিকল্পনা, দাবি বিজেপির। চাপে পড়ে মডেল ভেঙ্গে সরিয়ে দিল তৃণমূল নেতৃত্ব। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের বাঙালীপুর এলাকায়। মমতা-মোদীর বিতর্কিত ওই মূর্তি বানানোয় তুমুল আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
যদিও ওই ঘটনায় দোষের তেমন কিছুই দেখছে না তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা কো-অর্ডিনেটর সুভাষ চাকী জানিয়েছেন, দশ হাত বিশিষ্ট মমতার ওই মডেলের মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়নের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর যে উন্নয়নের হাতেই বধ হয়েছেন মোদী। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি যেভাবে দিদিকে আক্রমণ করেন, সে জায়গায় দাঁড়িয়ে এই মডেলে তিনি তেমন কোনও দোষই দেখছেন না।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের বিনসিরা পঞ্চায়েতের বাঙ্গালীপুর এলাকায় তৃণমূল নেতৃত্বদের তরফে বানানো হয় ওই মূর্তিটি। বাঙালীপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বাজার এলাকায় প্রতিদিন নিয়ম করে ওই মূর্তি বের করা হচ্ছিল। যেখানে দেখা যাচ্ছে দশ হাতে উন্নয়নের ত্রিশুল নিয়ে দুর্গারূপী মমতা বধ করছে অসুররূপী মোদীকে। মডেলের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় ওই মডেলের ছবিও। যদিও পরে এলাকার মানুষজনের নিন্দনীয় মনোভাবে এমন ভোটপ্রচারের কৌশল থেকে পিছু হটে তৃণমূল নেতৃত্ব। ভেঙ্গে ফেলা হয় মোদীর মূর্তি, সরিয়ে ঢেকে রাখা হয় দুর্গারূপী মমতার মডেল।
এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
এলাকার বিজেপি নেতা রঞ্জন দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাতে মোদী বধের এমন মডেল নোংরা মানসিকতার পরিচয় বহন করে। এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতিকে এসব করে অশান্তি পাকাতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিষয়টি নিয়ে মৃৎশিল্পী শেখর সরকার জানিয়েছেন, চার হাজার টাকার বিনিময়ে ওই মডেল বানিয়েছেন তিনি। হিলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভঙ্কর মাহাতো ও স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার নির্দেশেই তিনি মূর্তিটি বানিয়েছেন। যেখানে মমতার দশ হাতে রাজ্যের একাধিক উন্নয়ন তুলে ধরা হয়েছে। আর উন্নয়নের ত্রিশূলেই মমতার হাতে বধ হয়েছেন মোদী। সেই চিত্রই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মডেলের মাধ্যমে।

