আমাদের ভারত, ৮ মার্চ: দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান করা হয়েছে, এই অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ সহ বিজেপি নেতারা। এবার সেই সুর আরও কড়া করলেন মোদী। রবিবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, নারী দিবসের আগের দিন একজন মহিলা রাষ্ট্রপতিকে চরম অপমান করা হলো।
শনিবার রাতে বঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আদিবাসীদের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। কিন্তু বাংলায় এলেও তাকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। যা নিয়ে অভিযোগ তোলেন খোদ রাষ্ট্রপতি। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তিনি মানুষের জন্য লড়াই করতে ধর্নায় বসেছেন। তাই তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব ছিল না। এরপরেই রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ তুলে এক্স মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবারের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেই সুর আরো চড়িয়ে মোদী বলেন, আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে। আর তার ঠিক আগের দিন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চরম অপমান করেছেন। দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসীদের উৎসবে শামিল হতে বাংলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল আদিবাসীদের অপমান করেছে, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি আদিবাসী সমাজের বিকাশের কথা চিন্তা করেছেন। তাই কি তার সাথে এমন ব্যবহার করা হলো? মোদীর দাবি, এটা শুধু রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, সংবিধানেরও অপমান।সংবিধানের স্পিরিটের অপমান। গণতন্ত্রের অপমান। যারা জীবনের সংঘর্ষ পেরিয়ে সাফল্য পেয়েছেন সেই সব মহিলাদের অপমান।
তৃণমূল অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী অনেক আগেই রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছেন। আর এখন বাংলার ভোটের আগে রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন। তৃণমূল মুখপাত্র বলেছেন, সংসদ ভবন উদ্বোধনের সময় মোদী রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানাননি। সেটা ছিল গণতন্ত্রের কালো দিন। আর উনি এখন ভোটের আগে রাষ্ট্রপতিকে রাজনীতির কারণে ব্যবহার করছেন, যা এর আগে কখনো হয়নি।
অন্যদিকে রবিবারের ধর্না মঞ্চে একটি ফ্লেক্স তুলে ধরেন তৃণমূল নেতা- নেত্রীরা। সেখানে একটি চেয়ারে বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন রাষ্ট্রপতির দ্রৌপদী মুর্মু। এই ছবি দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝানোর চেষ্টা করেছেন রাষ্ট্রপতিকে কিভাবে অপমান করছেন মোদী। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট দাঁড়িয়ে আছেন আর প্রধানমন্ত্রী বসে, আমরা কখনো এরকম করি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এস আই আর- এর কারণে আরো কতো আদিবাসীদের নাম বাদ গেছে সেটা কি আদৌ রাষ্ট্রপতি খোঁজ রেখেছেন? একই সঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সাঁওতালদের জন্য কী করেছে সেই বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন।
এর পাল্টায় বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ প্রমাণ করে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা আদিবাসী বিরোধী, মহিলা বিরোধী। তার আরো দাবি, এই ধরনের কথা এটাও প্রমাণ করে দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার মস্তিষ্কের স্থিরতা হারাচ্ছেন। কোনো কারণে মনে এবং মাথায় তার সময় ভালো যাচ্ছে না। মাথাটা ঠিক নেই, ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেছেন। পরাজয়ের ভয়ে তিনি এইসব কথাবার্তা বলছেন। তাই মস্তিষ্ক কাজ করছে না।

