আমাদের ভারত, ২১ এপ্রিল:পয়লা মে থেকে দেশে তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শুরু হচ্ছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ১৮ উর্ধ্বে টিকা পাবেন চারদিন পর অর্থাৎ ৫ মে থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় এক কোটি মানুষ টিকা নিয়েছেন। পরবর্তী টিকা করনের জন্য আরো এক কোটি টিকা কেন্দ্রকে সরবরাহের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
বুধবার মালদহে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন, “আগামী ২ মে রাজ্যে ভোটের ফল প্রকাশ হবে। তারপর ৫মে থেকে শুরু হবে ১৮-ঊর্ধ্বের টিকাকরণ। এর মধ্যে ৯৩ লক্ষ মানুষ টিকা পেয়েছে। তবে কেন্দ্রকে বলেছি আরো এক কোটি টিকার ডোজ পাঠাতে। এই টিকা দেওয়া শেষ হতে হতে আমরা আরও টিকা কেনার ব্যবস্থা করতে পারব।”
মমতা জানিয়েছেন টিকা কেনার জন্য ইতিমধ্যেই ১০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করা হয়েছে। তাই বাজারে টিকা চলে এলেই তা কেনার কাজও শুরু করবে রাজ্য।
মালদা সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন,”এখন ভোট নয় করোনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই প্রচারের ফাঁকে এর জন্য সময় বার করতে হচ্ছে।” সংক্রমন মোকাবিলায় কি আবার লকডাউন হবে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এখন মানুষের মধ্যে। এ-প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা লকডাউন করবো না। লকডাউনে মানুষের দুর্ভোগ হয়। আমি নোটবন্দির মত মানুষকে গৃহবন্দি করতে চাই না।” রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না, এটা একটা ঝড়। ঝড় কেটে যাবে। ” প্রথমবারে সংক্রমণের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন,” আগের বারও আমরা সামলে ছিলাম। এটা ঠিকই এবারের পরিস্থিতি আরও গুরুতর। কিন্তু এবারও সামলে নেব আমরা।”
করনা দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, তার তথ্য দেন মমতা। তিনি বলেন,”রোগী যাতে ফিরে না যায় সে জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে সঙ্গে বেশ কয়েকটি সেফ হাউসকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সেফ হাউজের সংখ্যা। যারা সংক্রমিত হচ্ছেন তাদেরকে তিনি পরামর্শ দেন,” যদি মনে করেন বাড়িতে নিভৃতে বসে থেকে সেরে উঠবেন তাহলে অযথা হাসপাতালের শয্যা আটকে রাখবেন না। যাদের দরকার তাদের জন্য শয্যা ছেড়ে রাখুন। বাড়িতে না থাকতে পারলে সেফ হাউসে থাকুন। রাজ্যে শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন মমতা। এখন ১১ হাজার শয্যা রয়েছে কয়েক দিনের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১৩ হাজার করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

