আমাদের ভারত, ১৬ মার্চ: নন্দীগ্রামে পায়ে আঘাত লাগার পর সোমবার থেকেই ফের প্রচার কাজ ফের শুরু করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের পর মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় একাধিক সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। শালতোড়া বিধানসভা এলাকার মেজিয়া হাইস্কুলে তৃণমূলের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী। অমিত শাহের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, দলীয় নেতাদের গ্রেফতার করতে কলকাতায় বসে অমিত শাহ পরিকল্পনা করছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার অসম থেকে কলকাতায় ফিরে দলের নেতাদের সঙ্গে প্রার্থী নিয়ে দলীয় কর্মীদের যে বিক্ষোভ চলছে সেব্যাপারে বৈঠক করেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কলকাতায় বসে তৃণমূলের নেতা নেত্রীদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে হেনস্থা করার পরিকল্পনা করছেন অমিত শাহ। তার কথায়, “হোম মিনিস্টার কলকাতায় বসে পরিকল্পনা তৈরি করছেন কাকে গ্রেপ্তার করা হবে? কাদের পিছনে সিবিআই লাগানো হবে?”
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাজে শাহের বিরুদ্ধেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে কে চালাচ্ছেন? অমিত শাহ চালাচ্ছেন না তো? আমরা চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। আমি চাই না নির্বাচন কমিশনের কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করুক। এটা আমরা কিছুতেই মানবো না।”
নন্দীগ্রাম-কাণ্ডের জন্য এদিন তিনি ফের বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন।” তিনি বলেন একটা করে ভোট একটা খেলা। ২৭ তারিখ কিন্তু খেলা খেলতে হবে। বিজেপি ভেবেছে আমার একটা পা ভেঙ্গে দিলে সুবিধা হবে। কিন্তু মনে রাখবেন সুস্থর থেকে আহত বাঘ আরো বেশি ভয়ঙ্কর। আমার মা বোনেদের দুটো পা আছে তাদের পায়ে দাঁড়াবো, আমার ছাত্র যৌবনের দুটো পা তাদের পায়ে দাঁড়াবো।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন রেশনে বিনা পয়সায় খাবার দেওয়া হচ্ছে। এবার রেশন দোকানে যেতে হবে না। বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প, কৃষক বন্ধু প্রকল্প, কন্যাশ্রী সহ রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের বিষয়ও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা আগে ১২ ঘন্টা কাজ করলে এখন ১৮ ঘন্টা করুন। বহিরাগত গুন্ডা এনে রাজ্যে ভোট হতে দেব না”।

