আমাদের ভারত, ৭ এপ্রিল: ভোটের আগে তৃণমূল ত্যাগ করেছেন বেশ কিছু নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে একেবারে সাধারণ কর্মীরাও। ভোটের পরেও এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন খোদ তৃণমূল নেত্রী নিজেই। বুধবার কোচবিহারের এক জনসভা থেকে তেমনি আশঙ্কার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। টাকার লোভেই কেউ কেউ ভোটের পর দল ছাড়তে পারে সেই আশঙ্কার সুর ছিল তার গলায়। দলত্যাগীদের এদিন গাদ্দার বলে আক্রমণ করে মমতা বলেন, এদের জন্যই আমাদের অন্তত ২০০ আসন চাই।
বুধবার নির্বাচনী সভা থেকে মমতা বলেন,” আমি একা জিতে তো লাভ নেই। আমার ভোট হয়ে গিয়েছে। আমি যেখানে দাঁড়াবো সেখানেই জিতবো। আমি এখানে দাঁড়ালে এখানেই জিততাম। আপনারাই আমাকে ভোট দিতেন। কিন্তু এটা সিডিউল কাস্ট আসন, তাই আমি দাঁড়াতে চাইলেও দাঁড়াতে পারবো না। পদবীর ব্যাপার আছে। আমি একা জিতে তো সরকার গঠন করতে পারব না।”
এরপরই তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ২৯৪ এর মধ্যে মিনিমাম আমার ২০০ টা চাই। আর ২০০ মিনিমাম কি করে হবে? আমি একটা জিতলাম। বিনয় বর্মন একটা জিতল। একে একে দুই হলো। রবি একটা জিতল তিন হল। হিপি একটা জিতল চার হল।পার্থ একটা জিতল পাঁচ হল। এই করে করে মনে রাখবেন আমাদের ২০০ টা পেরোতে হবে। তা না হলে বিজেপি টাকা খাইয়ে কিছু গদ্দারকে আবার কিনে নেবে।”
এদিনের সভা থেকে কোচবিহার দক্ষিণের বিদায় বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে গদ্দার বলে আক্রমণ করেছেন মমতা। এই মিহির গোস্বামী বিজেপিতে গিয়ে প্রার্থীও হয়েছেন নাটাবাড়ি থেকে। মমতা বলেন,” যে গদ্দার এখানে ছিল সে পালিয়েছে অন্য জায়গায়। রবি ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে আমাদের এক গাদ্দার।পরিবহনের চেয়ারম্যান, উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সব করে খেয়ে ভোটের আগে তাকে বিজেপি করতে হয়েছে। ”
এই মিহির একসময় উত্তরবঙ্গের মমতার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ তার উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তিনি নাকি মহান নেতা। কোনদিন ঘর থেকে বের হয়না। একটা ফোন ধরেনা। একটা কাজ পর্যন্ত করে না। রবি ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেছে। রবি ঘোষ তো তাও রাত ১২ টার পর ফোন করলেও ফোন ধরেন। সকাল চারটেতে ফোন করলে ফোন ধরে। মানুষ বিপদে পড়লে ছুটে যায়। বিনয় যায়। হিপি যায়। তুমি কোথায় যাও? তুমি তো আমারই ফোন ধরোনা। তাহলে আর মানুষের ফোন ধরবে কি? এত তোমার গরজ ,এত তোমার অহংকার।”
আজ এভাবে সরাসরি ২০০ আসনের লক্ষ্যকে সর্বসমক্ষে তুলে ধরতে গিয়ে এরকম আশঙ্কার সুর মমতার গলায় ধরা পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ভোটের পর ঘোড়া কেনাবেচা আশঙ্কার কথাও আজ তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে এর থেকে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে দ্বিধা ধরা পড়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর গলায়।

