আমাদের ভারত, ১৬ মার্চ: তৃণমূলের নেতাদেরকেই শুধু নয়, এবার সরকারি আধিকারিকদেরও হেনস্থা করার অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে দিয়ে এই হেনস্থা করছে বিজেপি, অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঁকুড়ার ছাতনায় তৃণমূল নেত্রী জানান রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব হরেকৃষ্ণ ত্রিবেদীকে সিবিআই চিঠি পাঠিয়েছে। কিন্তু কী কারনে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই বলেননি।
রাজ্যে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তৃণমূল নেতা নেত্রীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মঙ্গলবার বাঁকুড়ার একাধিক সভায় আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তাঁর দলের নেতা ছাড়াও সরকারি আধিকারিকদের হয়রানির অভিযোগ তুললেন। বাঁকুড়ার মেজিয়ার সভা থেকে এই অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে সেখানে তিনি কারোও নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু ছাতনা সভায় সরাসরি স্বরাষ্ট্র সচিবকে সিবিআই চিঠি দিয়েছে বলে প্রতিবাদের সুর তীব্র করেন তিনি।
তাঁর কথায়, “সারাক্ষণ একে মারছে, ওকে গ্রেফতার করে বেড়াচ্ছে। এর বাড়িতে আয়কর হানা, ওর বাড়িতে সিবিআই পাঠিয়ে দাও। নির্বাচন চলছে এখন এসব হওয়া উচিত? এমনকি আমার হোম সেক্রেটারিকে পর্যন্ত নোটিশ পাঠিয়েছে।” তবে এসব করে তাঁকে দমানো যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা।
বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ওরা ভাবছে এই করে ওদের মুখ বন্ধ করে দাও। আমি বিজেপিকে বলি যতক্ষণ বেঁচে থাকব আমার কন্ঠ চলবে। তোমরা আমাকে স্তব্ধ করতে পারবে না। ভারতবর্ষে একটা লোকও যদি প্রতিবাদ করার না থাকে, আমি থাকবো জেনে রেখো।”
প্রসঙ্গত,দিন কয়েক আগেই কয়লা কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্ত্রীর রুজিরা নারুলা ও তার বোন ও তার পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। বহুদিন পর সারদাকাণ্ডে ইডির জেরা করেছে কুণাল ঘোষকে। আইকোর মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাজিরা দেননি। তবে ইডির জেরার মুখোমুখি হয়েছেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি ভোটের মুখে বিজেপির নির্দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তবে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আধিকারিকদের হেনস্থার অভিযোগ তোলা মমতার ক্ষেত্রে নতুন নয়। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানায় সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধর্মতলায় অবস্থান-বিক্ষোভে বসেছিলেন মমতা।

