আমাদের ভারত, ২৪ এপ্রিল: এতদিন মুখেই কমিশনের বিরুদ্ধে বিজেপির হয়ে কাজ করার অভিযোগ করে আসছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু শনিবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে সাংবাদিক সম্মেলনে একেবারে দলিল-দস্তাবেজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি করলেন কমিশন বিজেপির কথাতেই চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই তথ্য প্রমাণ নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে।
সাংবাদিক সম্মেলনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু কাগজ দেখান। তিনি দাবি করেছেন সেগুলি উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন, বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে এবং এই রাজ্যের ডিএম এসপিদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপের চ্যাটের প্রিন্ট আউট দেখিয়ে মমতা দাবি করেছেন এই গ্রুপের কথোপকথনে তৃণমূল কর্মীদের ট্রাবল মঙ্গার বলা হয়েছে( যারা অশান্তি বা গন্ডগোল সৃষ্টি করে)। এছাড়াও তৃণমূল কর্মীদের টিএমসি গুনস বলা হয়েছে। তাদের ভোটের আগের রাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। যাতে এলাকায় তারা ভোট করতে না পারেন। উদাহরণ হিসেবে মমতা বলেন বুদবুদ, মঙ্গলকোট, উত্তর দমদম সহ একাধিক জায়গায় ভোটের দিন এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আগের দিন রাতে তুলে নিয়ে গিয়ে ভোটের দিন বিকেল পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা হয়েছে তৃণমূলের কর্মীদের বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কিছু জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সমালোচনায় সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নেত্রী বলেন, “এখানে কিছু ডিএম এসপিরাও তাবেদারি করছে। যেটা তাদের করা উচিত নয়। আমি স্পষ্ট বলতে চাই কোন নির্দেশ একই কাজ চলছে, সব খবর আমার কাছে আছে। এমন করছে যেন বিজেপি ক্ষমতায় এসে গেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথা শুনে চলছে। শুধু বিজেপিকে বাংলা দখল করানোর জন্য কমিশন এখানে এত দফা ভোট করালো।”
কিভাবে এই চ্যাট মমতার হাতে এলো, তার উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, কোনো সরকারি সূত্রে তিনি এটি পাননি। কোনো এক সাংবাদিক এগুলি তাকে দিয়েছেন।
মমতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভোটের পর তিনি এই সমস্ত তথ্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। তার কথায় ভোট নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন। আর তার জন্য নির্বাচন কমিশনেরও নিরপেক্ষতা প্রয়োজন।
এর আগে মমতাকে দুবার শোকজ করেছিল কমিশন। ২৪ ঘন্টা তার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “কি করবেন? শোকজ করবেন? আর কত অপমান করবেন?” রাজ্যে করোনা বৃদ্ধির জন্য কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, কমিশনের কাছে কোন বিচার আমরা পাচ্ছি না। বিজেপির কথা শুনে কমিশন ভোট করানোর জন্য এত বেড়েছে। বিজেপির কথা শুনে ৮ দফায় নির্বাচন না করলে এসব হতো না।

