আমাদের ভারত, ৪ ফেব্রুয়ারি: “নিজে নির্বাচন কমিশনের কাছে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন মমতা। পাত্তা পাননি। তাই নিজেই উল্টে জ্ঞানেশ কুমারকে দোষারোপ করছেন। খুব সরল প্রক্রিয়া।” বুধবার এই ভাষাতেই এক্স হ্যান্ডলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়।
তথাগতবাবু অপর এক পোস্টে লিখেছেন, “পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে মৃত্যুহার প্রতি বছরে প্রতি হাজারে ছয় জন – অর্থাৎ ০.৬ শতাংশ। সেই নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে ৭.৬৬ কোটি ভোটারের মধ্যে মৃত্যু হয় বছরে ৪.৫৬ লক্ষ। এসআইআর শুরু হয়েছিল ৪ নভেম্বর ২০২৫, অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাস। তাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা এই তিন মাসে দাঁড়ায় ১.৪০ লক্ষ। এবং স্বাভাবিক নিয়মেই এদের বেশিরভাগ বৃদ্ধ।
তাহলে মমতা যে বলছেন, ১৫০ জন বৃদ্ধ মানুষ এসআইআর-এর জন্য মারা গেছেন, সেটা কী হিসাবে? এঁদের মধ্যে কেউ স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন, কেউ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, কেউ রোগে মারা গেছেন। মমতার কাছে কোনও প্রমাণ আছে যে এই ১৫০ জন মানুষ ঠিক এই কারণেই মারা গেছেন?
আসল কথা হচ্ছে, মমতা নিশ্চিত যে এই নির্বাচনে হেরে যাবেন এবং তারপরে রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন। তাই ‘সব ব্যাটাকে ছেড়ে দিয়ে বেঁড়ে ব্যাটাকে ধর‘, প্রবাদকে সম্বল করে মমতা নির্বাচন কমিশনকে ধরেছেন। নিজের রাজ্য রসাতলে গেছে, গুন্ডামি- অনুপ্রবেশ- চুরি- দুর্নীতিতে রাজ্যবাসী জর্জরিত। এর মধ্যে মমতা কলকাতা ছেড়ে দিল্লি গিয়ে মেলোড্রামা করছেন। মরছে বাঙালি, বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু।”
তৃতীয় পোস্টে তথাগতবাবু লিখেছেন, “পুকুর চুরি ধরা পড়ে যাচ্ছে, ভুতুড়ে ভোটার ও বাংলাদেশি ভোটারদের নাম কাটা যাচ্ছে। মূলোগুলোর পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে – এখন একমাত্র উপায় “বাঙালির উপর অত্যাচার হচ্ছে” বলে ষাঁড়ের মত চ্যাঁচানো। না হলে ভাবতে পারেন, এক মুখ্যমন্ত্রী চিল্লাচ্ছে, “আমি এক কাপড়ে দৌড়ে এসেছি”, আর এক এমপি রাস্তায় সাব-ইন্সপেক্টরদের সঙ্গে ঝগড়া করছে!
দিল্লি পুলিশ একশোবার যাবে। কারণ মমতা যাই কুনাট্য করুন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী তো বটেন! দিল্লিতে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব দিল্লি পুলিশেরই ! সে কাজে দিল্লি পুলিশ কোনো ত্রুটি রাখবে না। মনে আছে, মমতা একবার নিজের চাদর গলায় জড়িয়ে নিজেকে ফাঁসি দেবার নাটক করেছিলেন – ৬ই এপ্রিল ১৯৯৬, আলিপুরের গোপালনগর মোড়ে? দিল্লিতে আবার সেই নাটক করলে তাকে আটকানোর দায়িত্ব তো দিল্লি পুলিশের উপরেই বর্তাবে !”

