মমতা বউমা এনেছেন পাঞ্জাব থেকে, টিউশন মাস্টার বিহার থেকে, ব্রান্ড অ্যাম্বাসাডার বাইরে থেকে, তিনি আমাদের বহিরাগত বলছেন, গোপীবল্লভপুরে বললেন দিলীপ ঘোষ

অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ২৪মার্চ:
নরেন্দ্র মোদীর গরিব বাড়ির ছেলে যে আমাদের স্বপ্ন সফল করবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার হবে, সাথে গরিব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।” নয়াগ্রাম বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী বকুল মুর্মুর সমর্থনে গোপীবল্লভপুর এক নম্বর ব্লকের শাশড়া ফুটবল ময়দানের সভায় একথা বললেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সংসদ দিলীপ ঘোষ।

এদিন তিনি বহিরাগত ইস্যু নিয়ে তীব্র আক্রমন করেন রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে। রাজ্যের উন্নয়ন সহ একাধিক ইস্যুতে তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “পাশের রাজ্যের নেতাদের বহিরাগত বলছেন। মমতা বাড়ির বৌমা এনেছে পাঞ্জাব থেকে। নির্বাচন জেতার জন্য টিউশন মাস্টার এনেছে বিহার থেকে, বাংলার ব্রান্ড অ্যাম্বাসাডার করেছে শারুখ খানকে। তিনি আমাদের বহিরাগত বলছে? প্রধানমন্ত্রীকে বহিরাগত বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহিরাগত বলছেন। অর্জুন মুন্ডাকে বলছে বহিরাহত। এর যোগ্য জবাব দিতে হবে। এখানে মা বোনের সুরক্ষা নেই। আমাদের একশো সাঁত্রিশ জন কর্মী বলিদান দিয়েছেন। এর যোগ্য জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গলমহলে পরিবর্তন হয়নি। শালপাতা, কেন্দু পাতা তুলে মায়েদের সংসার চালাতে হয়। বাবুই দড়ি পাকাতে হয়। চাকরির জন্য ঝাড়খন্ড, ওড়িশা যেতে হয়।চিকিৎসার জন্য কটক, ভুবনেশ্বর, ভেলর যেতে হয়। স্কুলে বাচ্চারা শিক্ষক পায় না, বই পায় না। মিড ডে মিল খেয়ে চলে আসে। থানায় গেলে পুলিশ পায় না, সিভিক পুলিশ থানা চালাচ্ছে।

দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপি সরকার আসলে জঙ্গলমহলের উন্নয়নের জন্য আলাদা বোর্ড তৈরি হবে। আদিবাসী সমাজ বিজেপিকে বিশ্বাস করে। তৃণমূল সারা বাংলাকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে পিছিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। বাংলাকে বাংলাদেশ বানাবার চেষ্টা করছে।তিনি বলেন, “তৃণমূল বলছে দুয়ারে দুয়ারে সরকার, কিন্তু দেখা যাচ্ছে হুইল চেয়ারে সরকার চলছে। যেসরকার নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে না সেই পিসি ভাইপো সরকার চলতে পারে না। তাই বাংলার নিজের পায়ে দাঁড়ানো নতুন সরকার গড়তে হবে আর সেই সরকার হবে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে।”

এদিন দিলীপ ঘোষ হেলিকপ্টারে আসেন। বর্গিডাঙা ফুটবল খেলার মাঠে নেমে নয়াগ্রামের প্রার্থী বকুল মুর্মুকে নিয়ে রোড’শো করেন। রোড’শোতে হাজারখানেক বাইক ছিল। প্রায় ১২ কিলোমিটার রোড’শো করে জনসভাস্থলে পৌছন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *