Shamik, BJP, Mamata, এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক নাটক, তোপ শমীকের

আমাদের ভারত, ৪ ফেব্রুয়ারি: “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক চরিত্র ও নাটকীয়তার অভ্যাস সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। এখন সেই একই বাস্তবতা দিল্লিতেও দেখা যাচ্ছে।” ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বুধবার স্পষ্ট ভাষায় এ কথা বলেন।

শমীকবাবুর উদ্ধৃতি দিয়ে বিজেপি-র তরফে জানানো হয়েছে, “কখনও তিনি প্রাকৃতিক শীতের দৃশ্য উপভোগের কথা বলেন, কখনও দিল্লি যান, কখনও বিদেশ সফরে বেরোন—এসবই জনদৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গল গ্রহে যান বা অ্যান্টার্কটিকায় যান, এসআইআর প্রক্রিয়া চলবেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্পষ্ট বার্তা নো এসআইআর, নো ভোট।”

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যের মানুষ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হোক বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বৈধ কাজকর্মে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হোক—তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। বর্তমানে দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর কার্যকর হচ্ছে, কিন্তু কোথাও কোনও অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা নেই। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই কেন এত হইচই? উত্তর একটাই—সত্য বেরিয়ে পড়ার ভয়।”

শমীক ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দেন, “৪ আগস্ট ২০০৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের দাবি জানিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা। আজ সেই একই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে হাজির হয়েছেন।” শমীকবাবু এটিকে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও দ্বিচারিতার জ্বলন্ত উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পোরাস। তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্ডা একেবারে পরিষ্কার—বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়া। এই কারণেই বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করার চেষ্টা চলছে এবং নির্বাচন কমিশনের উপর প্রকাশ্যে আক্রমণ করা হচ্ছে।”

শমিক ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন দিল্লিতে প্রতিবাদ করছেন? কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তিনি আক্রান্তদের দেখতে যাননি। অথচ এসআইআর নিয়ে দিল্লিতে ছুটে যাওয়া প্রমাণ করে, তিনি নিজের রাজনৈতিক পরাজয় সম্পর্কে সচেতন।”

তিনি বলেন, “এই সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি একসময় বিধানসভায় স্পিকারের সামনে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম লিখে কাগজ ছুড়ে ফেলেছিলেন। আজ তিনি সেই সত্য ঢাকতে চাইছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিএসএফ-কে জমি না দিয়ে রাজ্য সরকার সীমান্ত সুরক্ষা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।”

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তৃণমূলের বিধায়করা হিন্দুদের হুমকি দিচ্ছেন, তৃণমূলের মন্ত্রীরা ‘দাওয়াত-ই-ইসলাম’-এর মতো অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। হিন্দু ধর্মকে ‘নোংরা ধর্ম’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভুয়ো ভোটার কার্ড উদ্ধার হয়েছে, যার অনেকগুলোর সূত্র পশ্চিমবঙ্গ। কালিয়াচকে ভুয়ো মুদ্রা উদ্ধার হয়েছে। লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদের ঘটনাও বেড়েছে, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *