এক-দুই-তিন মানুষকে ধন্যবাদ দিন, সব চক্রান্তকে জব্দ করে দিয়েছে ভবানীপুর, রেকর্ড ভোটে জিতে বললেন উচ্ছ্বাসিত মমতা

আমাদের ভারত, ৩ অক্টোবর: বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। ভবানীপুর উপনির্বাচনে নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। তার এই বিরাট জয়ের কৃতিত্ব ভবানীপুরের মানুষকেই দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তার কথায় অনেক চক্রান্ত হয়েছে সব চক্রান্তের জবাব দিয়েছে ভবানীপুর।ভিকট্রি সাইনের বদলে তিনি বলেন, এক দুই তিন মানুষকে ধন্যবাদ দিন।

জয় ঘোষণার পরই কালীঘাটের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ির সামনে তখন কর্মী-সমর্থকদের ভিড় উপচে পড়ছে। উচ্ছ্বসিত জনতাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মমতার সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। মমতা বলেন,” ভবানীপুর জায়গাটা ছোটো কিন্তু এর বৃত্তটা ছিল বিশাল। কারণ সারা ভারত আজ ভবানীপুরের দিকে তাকিয়ে ছিল। এখানকার মানুষ অনেক উৎসাহ অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে আমি চিরঋণী”।

পাশাপাশি মমতা জানান ভবানীপুরের চিরকালের ট্রেন্ড কম ভোট পড়ার। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতি ওয়ার্ডে তৃণমূল জয়ী হয়েছে বল জানান মমতা। তিনি বলেন,” তিনজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাই ভিকট্রি সাইন দেখাবো না বলব এক- দুই-তিন মানুষকে ধন্যবাদ দিন।

অন্যদিকে সকলকে সতর্ক করে মমতা আরও বলেন,” আমরা সবাইকে মিছিল করতে নিষেধ করছি। বরং বন্যায় বিপর্যস্তদের পাশে থেকে সেবা করার কাজে নিজেদের নিযুক্ত করতে পারলে সব থেকে বেশি খুশি হব”

আজ গণনার প্রথমকেই ঝড় তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পোস্টাল ব্যালট থেকেই এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরে একটি করে রাউন্ডের পর নিজের ব্যবধান ক্রমশই বাড়াতে থাকেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই স্পষ্ট হয়ে যায় জয়ের রূপরেখা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরেই যে ভরসা রাখছে ভবানীপুর পরিষ্কার হয়ে যায়। তেমনভাবে দাগ কাটতে পারেনি বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। আর খুঁজেই পাওয়া যিয়নি বাম প্রার্থীকে। অতীতের প্রায় সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ৫৮ হাজার ৮৩২ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালকে পরাজিত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এই জয় ২০১১-র ব্যবধানকেও ছাপিয়ে গেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর উপনির্বাচনের প্রচারের সময় একাধিকবার বলেছেন বি দিয়ে ভবানীপুর, বি দিয়ে ভারতবর্ষ। অর্থাৎ ভবানীপুর থেকেই ২০২৪ এর টার্গেটে লড়াইয়ের ময়দানে নেমে পড়লেন তিনি। একাধিক বক্তব্যে সেকথা স্পষ্ট করেছেন নিজেই। সেই জন্যই অনেক তৃণমূল কর্মী ভবানীপুরকে মিনি ইন্ডিয়া বলেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই বলেছেন মিনি ইন্ডিয়া দেখিয়ে দিলো গ্রেটার ইন্ডিয়াতে ২০১৪ সালে কি হতে চলেছে। মশাল জ্বালিয়ে সেলিব্রেট করেছেন মদন মিত্র। তার কথায় মমতার রোমে যাবেন আর বিজেপি হয়ে যাবে হোমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *