আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৩ ডিসেম্বর: কিষান বিক্ষোভ সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কম্পার্টমেন্টাল মুখ্যমন্ত্রী বলে কটাক্ষ করেন এবং তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে হেরেছেন আবার ভোটে দাঁড়িয়ে তিনি জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল একশো দিনের কাজের থেকে টাকা চুরি করে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা থাকলে মুখ্যমন্ত্রী কৃষি ঋণ মকুব করে দেখান। তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজ তৃণমূলের উপার্জন উৎস।
তিনি আরো বলেন, উত্তরপ্রদেশের ভোটের পর গণতন্ত্রের বোমা ফাটাবো। আজ শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সামনে কৃষকদের অবস্থান-বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শহিদ মাতঙ্গিনী বিডিও অফিসে কৃষি বাঁচাও কৃষক বাঁচাও শীর্ষক বিজেপির বিক্ষোভ সমাবেশ হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। শুভেন্দু অধিকারী মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, হুগলিতে বালি চুরি হয়। বাঁকুড়ায় বালি চুরি হয়। ঘাট থেকে টাকা তুলে সব ভাইপোর কাছে দিয়ে আসে। আমাদের জেলায় এই রোগ ছিল না। তৃণমূল এই রোগ নিয়ে এসেছে। প্রচুর বালি চুরি হচ্ছে অবৈধ ঘাটগুলো থেকে। দেনান থেকে রামনগর প্রচুর জায়গায় বালি চুরি হচ্ছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল এই কাজ করছে। সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।

শুভেন্দুবাবু বলেন, কলকাতা কর্পোরেশনের ভোট হয়নি লুট হয়েছে। ভাইপো সব টিপাটিপি করে ১ এ তৃণমূল বাকি সব অল্প অল্প করে। টিপাটিপি করে সব ঠিক করে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেছেন তৃণমূলের একটাই রিসোর্স হচ্ছে একশো দিনের টাকা মারা। ব্লকে ব্লকে আরটিআই করুন। ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্রের টাকা। এই টাকা আমরা চুরি করতে দেব না। তথ্য দিন সবগুলোকে জেলে ঢোকাবো। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমি এই মুখ্যমন্ত্রীকে বলি কম্পার্টমেন্টাল মুখ্যমন্ত্রী। আগে বলতাম নন এমএলে মুখ্যমন্ত্রী। উনি আমার কাছে হেরেছেন।

তিনি আরও বলেছেন দম থাকলে কৃষি ঋণ মকুব করে দেখান। যোগীজি ৩ লাখ পর্যন্ত মকুব করেছেন, মধ্যপ্রদেশে ৫ লাখ পর্যন্ত মুকুব করেছে। ওনার যদি দম থাকে তাহলে পাঁচ লাখ পর্যন্ত কৃষি ঋণ মকুব করে দেখান। সার নিয়ে কালোবাজারি হচ্ছে। জেলার পুলিশ সুপারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এ জেলার পুলিশ সুপার অমরনাথকে তার বাহিনী নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর পেছনে লেগে আছে। কিন্তু এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ নিয়ে কোথায় সারের কালোবাজারি হচ্ছে, খারাপ বীজ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে সেসব নিয়ে ধরপাকড় করেন না। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আগে ছিল দু টাকা উনি আসার পরে হয়েছে ৮ টাকা। এসব নিয়েই বিজেপির আন্দোলন। আর সেই উদ্দেশ্যে নিয়ে আজ ব্লকে ব্লকে অবস্থান বিক্ষোভ চলছে।

