আমাদের ভারত, ২৬ ফেব্রুয়ারি: ২০১৬-য় পশ্চিমবঙ্গে সাত দফায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু এবার আরও এক দফা বাড়িয়ে নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে ৮ দফায়। শুক্রবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশন সুনিল আরোরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ দফায় ভোট ঘোষণা করতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, বিজেপির তৈরি করা লিস্ট নির্বাচন কমিশন পড়ে গিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তিনি একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁকে হারাতে সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকার উঠে পড়ে লেগেছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই হোম যজ্ঞ ইত্যাদি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে। সম্ভবত সেই কারণে তিনিও বাড়িতেই ছিলেন। ফলে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার পরই বাড়িতে প্রেস কনফারেন্স করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “আমি সূত্র থেকে জেনেছি বিজেপি অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা ঠিক যে ভাবে বাংলায় ভোট করাতে চেয়ে ছিলেন নির্বাচন কমিশন সেভাবেই ভোট ঘোষণা করেছে। বিজেপির লিস্ট আমি দেখেছি। সেই তালিকাই পড়ে শুনিয়েছে কমিশন।”
তবে, কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিহারের ২৪০টি আসন রয়েছে। সেখানে তিন দফায় ভোট হয়েছে। তামিলনাড়ুতে ২৩৯ টি আসন রয়েছে সেখানে এক দফায় ভোট হচ্ছে। কেরলেও তাই। শুধু পশ্চিমবঙ্গে ৮ দফা ভোট হচ্ছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন মহান প্রতিষ্ঠান তার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি এটা কি সুবিচার হলো? আমি আপনাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছি, বিজেপি যা ঠিক করেছে তাদের চাহিদা মতো ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। সবটাই নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এর কথায় হচ্ছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মোদী-অমিত শাহরা জেলা ভাগ করতে চাইছেন। নির্বাচনে একেকটি জেলাকে পার্ট ওয়ান, পার্ট টু, পার্ট থ্রি করে ভোট নেওয়া হবে। এটা কি ধরনের সিস্টেম? তিনি বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগণায় তৃণমূল শক্তিশালী বলেই কি তিন দফায় ভোট করানো হচ্ছে?
তৃণমূল নেত্রী দাবি করেছেন, প্ল্যানমাফিক অসম, তামিলনাড়ু, কেরলে আগে ভোটটা করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যাতে বাকি পুরো সময় মোদী, শাহ পশ্চিমবঙ্গে পরে থাকতে পারেন।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি বাংলা নিজের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশে একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। আমাকে হারাতে গোটা কেন্দ্রীয় সরকার নেমে পড়েছে। আমি বলছি, বাংলাকে আমি ভালো করে চিনি। বাংলার বর্ডার টু বর্ডার চিনি। সব চক্রান্ত ভেঙে দেবো। খেলতে চাইছেন তো? খেলা তো হবেই। হারিয়ে ভূত করে দেব। আট দফাতেই খেলা হবে।”
তবে কমিশনের বক্তব্য, বাংলায় রাজনৈতিক হিংসা ও নির্বাচনী হিংসা কোন পর্যায়ে যেতে পারে তা পঞ্চায়েত ভোট ও লোকসভা ভোটে অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভোটের আগে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক হিংসায় মানুষ আহত হচ্ছেন বা মৃত্যু হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনরকম ঝুঁকি নিতে চাইনি কমিশন। অবাধ সুষ্ঠু ভোট করাতেই ৮ দফা ভোট করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

