“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রান্নার জন্য পচা আলুগুলোকে বেছে ফেলে দিয়েছেন”, শুভেন্দুর দল ছাড়ার প্রসঙ্গে বললেন কুণাল ঘোষ

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ২৫ ফেব্রুয়ারি: আজ বেলপাহাড়ির ইন্দ্রকুড়ি মাঠে বৃহস্পতিবার বিনপুর বিধানসভা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে। কৃষকরা আন্দোলন করছেন, কিন্তু তার কোনও সমাধান নেই। জেপি নাড্ডা দলের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি চাল ভিক্ষা করতে বলছেন। সেই কারণে মা-বোনদের বলছি গেরুয়া বসন পরে রাবণ সীতা হরণ করেছিল, এরা হলো সেই রাবণ। এরা গোটা দেশটা বিক্রি করে দিচ্ছে। শ্রমিকের সর্বনাশ করছে, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়েদের ভালোবাসেন। তাই কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী নানারকম প্রকল্প এনেছেন। এরা রামকে দেখে, কিন্তু মা সিতাকে দেখে না। তাই সীতা জঙ্গলে কষ্ট পায়। কন্যাশ্রী রূপশ্রী প্রকল্পে অধিকার দেওয়া হয়েছে বাংলা মহিলাদের, তাই আবার বাংলার মেয়েকে চাই।

শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন গৃহিণী হিসেবে রান্নার জন্য পচা আলু গুলোকে ফেলে দিয়েছেন। আর অমিত শাহ এবং দিলীপ ঘোষ সেইসব পচা আলু কুড়িয়ে নিচ্ছে। আসলে তৃণমূলে থেকে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে ইডি এবং সিবিআইয়ের ভয় তাদের ঘিরে ধরেছে। এই দলে রয়েছে মুকুল রায়। আমি বলে যাচ্ছি এই মুকুল রায়কে আমি কলার ধরে জেলের ঘানি টানাবো। তাকে আমি জানোয়ারের মত মনে করি, কখনোই তাকে ছাড়বো না। এ রাজ্যের মানুষকে বেঁচে থাকার অধিকার দিয়েছে মমতা। হাসপাতাল শিক্ষা স্বাস্থ্য সবকিছু দিয়েছে। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলে এসে মানুষকে পিঁপড়ে খেতে দেখেছে, তখন তিনি বুঝেছিলেন মানুষের খাবারের কত প্রয়োজন। তাই তিনি এখন বিনা পয়সায় চাল দিচ্ছেন। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানুষের কাজ করছেন। মাওবাদীদের যে প্যাকেজ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি তা পূরণ করবেনl ধীরে ধীরে সব হবে। আর যারা রামচন্দ্রকে নিয়ে রাজনীতি করছেন তাদেরকে বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেবে।
বিজেপি বলছে ডবল ইঞ্জিনের সরকার কিন্তু ওটা ডবল ইঞ্জিনের সরকার হবে না ওরা চাইছে ডবল চুল্লির শ্মশান। রাজ্য সরকারের কাজে কিছু হয়তো ভুল ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো শুধরে নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সমস্ত প্রকল্প চালু হয়েছে তার মধ্যে অনেকগুলি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। কেন্দ্র সরকার বলছে আয়ুষ্মান প্রকল্প চালু করার কথা কিন্তু রাজ্য দেবে অর্ধেক টাকা, আর অর্ধেক টাকা দিয়ে প্রকল্পটা হবে কেন্দ্র সরকারের তা কেন মানবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন তারা বলছেন সম্মান পাচ্ছি না, কিন্তু আমার মতো অসম্মানিত কেউ হয়নি এই দলে, কিন্তু আমিতো তৃণমূল ছেড়ে চলে যাচ্ছি না। তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তার সঙ্গে আমি বুঝে নেব কিন্তু দল ছেড়ে যাবো না। আপনাদের কাছে অনুরোধ আপনারা ঘরের মেয়েকে জয়ী করুন।

কুণাল ঘোষ বলেন, দিলীপ দা বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত ভুল বলে যাচ্ছেন। তার উদ্দেশ্যে বলি রাম লকে নিয়ে আসুন কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু দুর্গাকে অশ্রদ্ধা করবেন না। কুনাল ঘোষ বলেন, বিজেপি একটা সার্কাস দলের মত। শীতের সময় সার্কাস বসে। গরম এলেই তাঁবু চলে যায়। এই যে গ্রীষ্মকাল আসছে দেখবেন আর বিজেপিকে দেখতে পাবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এদিন কুণাল ঘোষ রাজ্যপালকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি বিজেপি নেতার মত বলছেন পরিবর্তন চাই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী তৃতীয়বারের জন্য হবেন এবং রাজভবনে পরিবর্তন হবে। শপথ নেওয়ার সময় রাজ্যপালকে গোলাপ ফুল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করতে হবে। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু ভোট তো দেবে বাংলার মানুষ। বাহিনীর ভয় দেখাবেন না, বাহিনী চলে গেলে তো এই সরকারই থাকবে তখন দিলীপ ঘোষ কি বলবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *