মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করে: শুভেন্দু অধিকারী

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৮ অক্টোবর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান এই রাজ্যে হিন্দু শূন্য হয়ে যাক। এটাকী শুধু ধর্মীয় করণে? ধর্মীয় কারণের থেকে বড় কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করেন। হিন্দু শূন্য হলে তাঁর ভোট ব্যাঙ্ক শক্তিশালী হবে। কোজাগরি লক্ষ্মী পুজোর দিন কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে মোমিনপুর, একবালপুরে হিন্দুদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হল, দোকানপাট লুট করা হল, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কেন? কারণ তিনি চান হিন্দু এই রাজ্য থেকে শূন্য হয়ে যাক। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গুলোকে প্রশ্রয় দেয়।

মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় বিজেপির বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে এসে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলে বার্তা দিলেন দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক তোপ ডাকতে শোনা যায় শুভেন্দু অধিকারীকে। সিএএ নিয়ে মুখ খোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, আগামী ২৪ শে একসঙ্গে ভোট হবে বিধানসভা ও লোকসভা। সিএএ আইন পাস হয়েছে খুব শীঘ্রই তা লাগু হবে। তিনি আরও বলেন, আমি চাই এনআরসি এবং জন্মনিয়ন্ত্রন আইন চালু করা দরকার, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত, তাই নাগরিকপঞ্জি তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। টাকা মারার কাজ করছেন, এই ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, তোষণের রাজনীতির নামে ভোট ব্যাংক তৈরি করার জন্যই সমস্ত নেতা নেতৃত্বকে এগিয়ে দেন তৃণমূল সরকার। কলকাতার মোমিনপুরের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ভোট বাক্সে রাজনীতি করতে তৃণমূল, চাইছে হিন্দু শূন্য হয়ে যাক মমিনপুর এমনটাই চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বনগাঁ-বাগদায় টাকা তোলার মেশিন তৈরি আছে। রঞ্জন মণ্ডলের নাম ধরেই বলেন, কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন এমনকি বাংলাদেশের থেকে লোক এনে চাকরি দিয়েছেন এই সরকার। তিনি আরও বলেন, পুজোর আগেই সকাল বেলা এক কুইন্টাল ঢুকে গেছে পুজোর পরেই এক কুইন্টাল আর একটু কম ঢুকেছে এই ভাষায় আক্রমণ করেন পার্থ, কেষ্ট ও মানিককে। আবাস যোজনার শৌচাগারের কাটমানি খাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বাবু বলেন, বাংলায় এমন পায়খানা তৈরি হচ্ছে যেখানে কেষ্ট বা পার্থকে ভরে দিলে আর বেরোতে পারবে না।

বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাগদার একটা লোক চলে গেছে। বিলের উপর ভোট হলে পেছন দিকে ফিরে দেখা যায় তোমার দেখা নেই গো তোমার দেখা নেই, সেই নাকি জেলার সভাপতি। বিধায়ক বিজেপির কিন্তু জেলা সভাপতি তৃণমূলের এক অদ্ভুত দল এমনকি জুনিয়র পিসি সরকারও হঠাৎ করে ভ্যানিস করতে পারেন না এই ভাষায় কটাক্ষ করেন বিশ্বজিৎ দাসকে।

বিজেপি বনগাঁয় সার্বিক উন্নয়ন করতে দিচ্ছে না রাজ্যের শাসক দলকে এ প্রসঙ্গে তাঁর আক্রমণ, যদি আমরা ক্ষমতায় আসি তাহলে উত্তর প্রদেশে যেমন যোগী সরকার হয়েছে অসমে হেমন্ত বিশ্ব শর্মা হয়েছে এখানে সরকার গড়লে প্রথম পুজো এই বাংলায় বনগাঁ থেকেই শুরু হবে।

পঞ্চায়েত ভোটের প্রস্তুতি নিতে হবে বলে দলীয় কর্মীদের তিনি বলেন, পঞ্চায়েতে ভোট লুট করতে আসলে বাক্স ধরে পুকুরে ফেলে দেবেন। পেট্রাপোল সীমান্তের স্লট বুকিং নিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, এইভাবে মমতা ব্যানার্জিকে তোলা তুলতে দেব না। বিধায়কদের তৈরি থাকতে নির্দেশ দেন তিনি। দরকারে আদালতের দ্বারস্থ হব বলে জানান। শুভেন্দুর টুইট প্রসঙ্গে বলেন, বিশাল অঙ্কের দুর্নীতি হয়েছে বিডিও ডিএমদের সব জেলে যেতে হবে। এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে বলেন, মমতা ব্যানার্জির তালিকা তার ভাইপোর মাধ্যমে পাঠাতেন কোথায় পরীক্ষা হবে সেটা কিভাবে পরীক্ষা হবে সব ঠিক করেন।

সিআইডি তদন্ত করতে নারাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসিএল একজন কর্মচারী রাজা পাল তাকে ওয়ান সিক্সটি ফোর করিয়েছিল সিআইডি। সেখানে ভাইপো এবং ভাইপোর পিসির নাম বলেছে তাই রাজশেখর এখন বিপদে পড়েছে। তাই ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না। বলাতে চেয়েছিল জিতেন্দ তৈওয়ারীর নাম। রাজশেখর মামলা চাপা দিতেই ব্যাকফায়ার হয়ে গেছে। সাইগালকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, সাইগালকে আটকাতে চেয়েছেন তোলাবাজ ভাইপো, অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেননি। সাইগাল গেলে তার পেছনে পেছনে অনেকেই যাবে এমনটাই মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *