মমতা বালা ঠাকুরও বিদ্রোহী! মতুয়াদের প্রার্থী না করায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৭ মার্চ: তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুরকে অপমাণ করে দল। যে মমতাবালা এতদিন বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এসেছেন। আজ সেই তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের ঠাকুর বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তাঁর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। তাঁর অভিযোগ, দলকে অনুরোধ করার পরও তাঁর মনোনীত মতুয়াদের ভোটে প্রার্থী করা হয়নি।

গত শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার করেছেন। তাঁর তিন দিন পর তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রার্থী তালিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। তিনি বলেন, মতুয়াদের ভোট নিয়ে যেখানে এতো কাঁটাছেঁড়া সেখানেই মতুয়াদের কোনও প্রার্থী করা হল না। আমার মনোনীতদের প্রার্থী না করায় আমি নিজেই খুব অপমাণিত হয়েছি। এছাড়াও মতুয়াদের মধ্যে যে বিভাজন বিজেপি ছাড়াও তৃণমূলও যে দায়ী তা প্রকাশ পাওয়া গেল তাঁর ইঙ্গিতে।

মমতাবালা ঠাকুর বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মন পেতে একসময় ঠাকুরবাড়ির সদস্য মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরকে প্রার্থী করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। জয়লাভের পর তাঁকে মন্ত্রিত্বও দেওয়া হয়। এরপর তাঁর বড় ভাই কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরকে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করে তৃণমূল। আর তখনই বেঁকে বসে মঞ্জুল। মন্ত্রিত্ব ছেড়ে, দল ছেড়ে নিজের বড় ছেলে সুব্রত ঠাকুরকে দাদার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান। আর তখন থেকেই এই দুই পরিবারে বিভাজন শুরু হয়। কপিলকৃষ্ণ জয়ী হওয়ার এক বছরের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় এই আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বালা ঠাকুরকে প্রার্থী করেন। তিনিও জয়ী হন। এরপর থেকে এই দুই পরিবারের মধ্যে বিভাজন আরও বাড়তে থাকে।

দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যান মতুয়ারাও। শেষ লোকসভা নির্বাচনে মমতাবালা ঠাকুর পরাজিত হন ঠাকুর পরিবারের সদস্য মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট ছেলে বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুরের কাছে। এরই মধ্যে ফের চলে এল বিধানসভা নির্বাচন। ফের প্রার্থী বাছাইয়ের পালা। এই প্রার্থী বাছাই নিয়েই এখন দলের সঙ্গে যে মমতা বালা ঠাকুরের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, এদিন তা বুঝিয়ে দিলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সংঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। এদিন মমতা বালা ঠাকুর বলেন, ‘মতুয়া মহা সঙ্ঘের কাজের সঙ্গে যুক্ত এমন মানুষদের মধ্যে থেকে কয়েক জনকে কয়েকটি আসনে প্রার্থী করার জন্য দলের কাছে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু দল সে কথা রাখেনি। এটা মতুয়াদের কাছে অসম্মানের। তাই আমি নিজেও প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি।’ তিনিও যে কিছুটা বেসুরো বা বিদ্রহী, এদিন তাঁর কথাতেই তা পরিষ্কার বোঝা গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *