আমাদের ভারত, ২১ আগস্ট: গুটি গুটি পায়ে লোকসভা ভোট দরজায় কড়া নাড়া শুরু করে দিয়েছে। আর কয়েক মাস বাদেই দিল্লির মসনদ অধিকারের যুদ্ধ শুরু হবে। তার আগে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের জন্য কল্পতরু হয়ে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ইমাম মোয়াজ্জামদের সমাবেশে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সংখ্যালঘুদের জন্য বিগত বছরগুলোতে তার সরকার কি কি করেছেন তাও তুলে ধরেন তিনি। সংখ্যালঘুদের আঁতে ঘা লাগলে মমতা নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার সরব হয়েছে বলেও মনে করে দিয়েছেন তিনি। বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সংখ্যালঘুদের ঘরের মেয়ে তিনি। লোকসভার আগে সংখ্যালঘুদের জন্য ঢালাও ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইমাম মোয়াজ্জন সমাবেশ শুরুর আগেই সুর চড়িয়েছেন আইএসএফের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আব্বাস সিদ্দিকী। তিনি দাবি তুলেছিলেন, ইমাম মোয়াজ্জামদের ভাতা বাড়ানোর। বিজেপি শাসিত গুজরাট সহ অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় ভাতা অনেকটা কম বলে উল্লেখ করেছিলেন আব্বাস।ইমামদের ভাতা ১০ হাজার ও ময়াজ্জমদের ভাতা আট হাজার টাকা করার দাবি তুলেছিলেন আব্বাস। সমাবেশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইমামদের ভাতা বাড়ানোর বার্তা দিলেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে ভাতা। আগে ইমামরা পেতেন ২৫০০ টাকা এখন থেকে তারা পাবেন তিন হাজার টাকা। অন্যদিকে মোয়াজ্জমরা এতদিন পেয়ে আসছিলেন এক হাজার টাকা তাদের ভাতা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫০০ টাকা।
তবে শুধু ভাতা বৃদ্ধি নয়, ইমাম ময়াজ্জমদের জন্য ঋণের বন্দোবস্তের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার অন্যান্য ঋণ প্রকল্পের মতো এক্ষেত্রেও ঋণের গ্যারান্টার হবে রাজ্য সরকার। এই ঋণের মাধ্যমে ইমাম মোয়াজ্জামরা যে আর্থিকভাবে অনেকটা উপকৃত হবেন তাও উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন মমতা। আগামী দিনে রাজ্যে আরও ৭০০ মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ভাবনা রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যে সমীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার বক্তব্য, মাদ্রাসাগুলিতে কী পড়ানো হবে তাতে হস্তক্ষেপ করবে না রাজ্য। তবে এগুলি রেজিস্টার্ড হলে সেখানে পড়ুয়ারা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে। একের পর এক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মমতা। রাজ্য সরকার যে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে রয়েছে তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
লোকসভা নির্বাচন সামনেই, তার আগে মমতার এই সংখ্যালঘুদের জন্য ঢালাও ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ইমাম- মোয়াজ্জামদের কথায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোট দেন না। সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের জন্য পাগল হয়ে উঠেছেন উনি। এবার অন্তত সংখ্যালঘুদের বোঝা উচিত কতটা প্রতারিত হয়েছেন তারা গত ১২ বছরে। সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন করেন, কতদিন তারা আর ভোটব্যাঙ্ক হয়ে বেঁচে থাকতে চান?

