“ভোটে আমাদের সাহায্য করে দাও, দেখো কোনোও অসুবিধা হবে না” নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতাকে ফোন মমতার, ভাইরাল অডিও ক্লিপ, বিতর্কের ঝড় রাজ্যে

আমাদের ভারত, ২৭ মার্চ: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হয়েছে কিন্তু তার মধ্যেই বিস্ফোরক এক অডিও ক্লিপ ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা তথা তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো তাকে ফোন করে তার কাছে নির্বাচনে সাহায্য চেয়েছেন। তাদের কথোপকথনের অডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। বিজেপির তরফে এই অডিও ক্লিপ সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই অডিও ক্লিপটির সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই অডিও ক্লিপ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অডিও ক্লিপের যে মহিলা কন্ঠ রয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রীর কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তৃণমূলের মুখপাত্র কূনাল ঘোষ বলেছেন যদি এই ফোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেও থাকেন তাহলে এটা তার সৌজন্যতা বোধ। তিনি তার দলের ক্ষুব্ধ এক কর্মীর ক্ষোভ ভাঙিয়ে দলে ফেরানোর চেষ্টা করেছেন, সেটা তো কোনো দোষের নয়। তাই তার এই সৌজন্যতাকে দুর্বলতা না বাবা হয়।

তবে বিজেপি নেতা তথা নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক দেউলিয়া পনা এবার একেবারে প্রকাশ্যে চলে এলো।

কি ছিল সেই অডিও ক্লিপে?
অডিও ক্লিপের কথাবার্তা….

মমতা: তুমি ইয়াং ছেলে অনেক কাজ করো আমি জানি, তুমি ভোটে আমাদের একটু সাহায্য করে দাও না। দেখো কোনোও অসুবিধা হবে না।

প্রলয় পাল: দেখুন আপনাকে দেখে কিন্তু আমি ও আমার পরিবার রাজনীতি করেছি।

মমতা: জানি

প্রলয় পাল: ২০১১-তে যেদিন ভোটের রেজাল্ট বের হয়, সেদিন বুঝেছিলাম আপনি ক্ষমতায় আসছেন। ৫ জন ব্রাহ্মণ ডেকে হোম যজ্ঞ করেছিলাম, মিছিল বের করেছিলাম। খারাপ লাগে এত ত্যাগ করার পরেও প্রলয় পাল রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট পায় না এর থেকে লজ্জার আর কিছু থাকতে পারে না।

মমতা: এটা কে করেছিল তুমি জানো, তোমাদের লোকাল যে লিডার ছিল সে আমাদের নন্দীগ্রামের ঢুকতে দিত না। নন্দীগ্রামে যেতে দিত না। সারা মেদিনীপুরী তাদের আধিপত্য ছিল। তুমিতো জানো সবই ভাই।

প্রলয়: আমি রেসিডেন্ট সার্টিফিকেট পাবো না? এটা হতে পারে?

মমতা: এটা যে করেছে সে অন্যায় করেছে।
প্রলয় পাল: আপনার মহাদেবের হাতে মার খেয়েছি আমি।

মমতা: আমি সবই জানি ভাই। আমি পরে সব শুনেছি। আমি তো আগে এত ডিটেলে খবর পেতাম না ।এখন আমি গেছি, আমি সবার খবর রাখছি। তাই খবর পাচ্ছি।

প্রলয় পাল: দিদি আপনি এখন যাই মনে করুন না কেন আমি বিজেপিতে রয়েছি। যে দলটা করি সেটার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনা। আমি প্রাণ দিয়ে জীবন দিয়ে যে দলটা করি সেটা করি। আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার মতো কোনো ক্ষমতা আগেও কারোর ছিল না এখনও নেই। আগামী দিনেও হবে না।

মমতা: তুমি আমাকে একটা বলো, যাদের জন্য করছো তারা তো কোনদিন বিজেপি করেনি।

প্রলয় পাল: আমি মনে করি যতদিন দল ঠিক থাকবে ততদিন তাদের সঙ্গে থাকবো। যখন অন্যায় হবে তখন কেন মানতে যাব?

মমতা: সেটাই তো আমি বলছি। আমি একটা কথা বলি এখন যে তোমাদের ওখান থেকে লড়াই করছে সে কি সৎ?
প্রলয় পাল: দিদি ওই পরিবার যখন আমি সিপিএমের কাছে অত্যাচারিত হতাম তখন ওই পরিবার পাশে ছিল। আমি এই জায়গা থেকে ওই পরিবার কে সমর্থন করি। শিশিরবাবু সঙ্গে বাবার দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক, যখনই কেও অত্যাচারিত হত তখনই কিন্তু পাঠিয়ে দিতাম। ওরা তখন সাহায্য করত। আর কেউ ছিল না।

মমতা: সেদিন তো আমাদের সঙ্গে ছিল বলে ওরা করত। আমরা সিপিএমের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতাম।

প্রলয় পাল: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি । আমাকে ক্ষমা করবেন, আপনি এত বড় নেতৃত্ব হয়ে সাধারণ কর্মীকে ফোন করেছেন। দিদি আমাকে ক্ষমা করবেন।

মমতা: তুমি ভেবে দেখো, তুমি ভালো থেকো।

পরে সংবাদ মাধ্যমকে বিজেপি নেতা প্রলয় পাল জানান তাকে তৃণমূল সুপ্রিমো ফোন করছিলেন। কিন্তু তিনি একসময় দলে থেকেও অসম্মানিত হয়েছেন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে একটা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট পর্যন্ত তিনি পাননি। আর সিপিআইএমের হাতে যখন মার খেয়েছেন তখন অধিকারী পরিবার তাকে রক্ষা করেছে। তাই তাদের প্রতি তিনি আনুগত্য দেখিয়েছেন। আর এখন তো শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের প্রার্থী ফলে তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন শুভেন্দুকে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করে নবান্নে পাঠানোর, সেই কাজ তিনি করে দেখাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *