আমাদের ভারত, ৪ মে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর লালু প্রসাদ রেলকে দুধেল গাই হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু এখন রেল অনেক আধুনিক হয়েছে। দিলীপ ঘোষের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন শুধু নাটক করেছেন কোনো কাজ করেননি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, কোনো রেল দুর্ঘটনা স্থলে এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী নিজে যাননি। কিন্তু মোদী গেছেন। এর অর্থ উদ্ধার কাজ থেকে শুরু করে তদন্ত সবটাই ঠিকঠাক ভাবে এগোচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বাজেটে যাত্রী সুরক্ষায় জোর দেওয়া হয় না, অ্যান্টি কলিসন ডিভাইস কাজ করেনি, এর দায় নিতে হবে রেলকে। এর জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা ব্যানার্জি যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন তখনকার আর এখনকার রেল একবার দেখুন। উনি আর লালু প্রসাদ রেলকে দুধওয়ালা গাই হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এখন একেবারে আধুনিক রেল হয়ে গেছে। যেমন স্পিড বেড়েছে, তেমন সুরক্ষা বেড়েছে এখন রোজ রোজ দুর্ঘটনা হয় না। অনেকেই সমালোচনা করতে পারে কিন্তু তাদের কার্যকালটাও একবার দেখা উচিত। তারা তো নাটক করেছেন কাজ কোথায় করেছেন।”
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেখানে বালাসোরে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের নিয়ে এসে এই রাজ্যের হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হলো কেন? এই প্রশ্নের উত্তরের দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাদের রাজ্যের লোকরা যদি নিয়ে আসে। সেটা ওনাদের ব্যাপার। অনেকে সরকারি হাসপাতাল ছেড়ে প্রাইভেট হাসপাতালে যান। এখানকার লোকেরাই সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা পান না। সেখানে ওখান থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। ওড়িশা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এরাজ্যের থেকে অনেক ভালো। মেদিনীপুরের লোকজন ভুবনেশ্বর কটকে চিকিৎসা করাতে যান। ওখানে কোনরকম খামতি ছিল না। এখানকার কিছু স্থানীয় লোক আসতে চেয়েছিল তাদের নিয়ে আসা হয়েছে। ওখানে রেলের হাসপাতাল পুরো খালি রয়েছে। এখানকার সরকারের আগ্রহ তারা নিয়ে এসে দেখাবে। সবাই সুস্থ থাকুক এটাই আমরা চাই।”
প্রধানমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজে গেছেন। এর আগে কোথাও অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে গেছেন কিনা আমার জানা নেই। এটা স্বাভাবিক প্রধানমন্ত্রী কোথাও এলে সেখানে সমস্ত কিছু ঠিকঠাক চলবে।”
রেল দুর্ঘটনার পর রেল আধিকারীকদের কথোপকথনে সিগন্যালিংয়ের সমস্যা ও রেল লাইনে সমস্যা ছিল, এই অডিও ক্লিপ টুইট করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সেটাও তদন্ত হওয়া উচিত। টুইট করছেন মানেই তার সত্যতা মেনে নেওয়া বোকামি হবে। ইচ্ছা করে হয়েছে, নাকি নেগলেজেনসি হয়েছে তার তদন্ত হবে।”

