পকসো’তে অভিযুক্তকে জামিনের আদেশে হতাশা ‘মহিলা স্বরাজ’-এর

আমাদের ভারত, ১৭ মে: শিশুদের রক্ষা এবং অপরাধীদের আইন অনুযায়ী পূর্ণতম মাত্রায় শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাল ‘মহিলা স্বরাজ’। এই সঙ্গে পকসো’তে অভিযুক্তকে জামিনের আদেশে হতাশা জানিয়েছে ‘মহিলা স্বরাজ’।

মঙ্গলবার তাদের এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “একটি নাবালক ছেলের যৌন অপরাধের বিষয়ে বোম্বে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় উদ্বেগজনক এবং দুশ্চিন্তার৷ মাননীয় বিচারক অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করার সময় মন্তব্য করেছেন যে ঠোঁটে চুম্বন করা এবং গোপনাঙ্গ স্পর্শ করা আইপিসি-র ৩৭৭ ধারার “অস্বাভাবিক অপরাধে-র” অন্তর্গত নয়। যখন এই ধরনের যৌন অপরাধের শিকার একটি নাবালিকা এবং মামলাটি পকসো আইনের অধীনে বিচার হবে, তখন এই আদেশ মর্মান্তিক। আমরা মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) এর রিপোর্টের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ ইন্টারপোলের সতর্কতা সম্বন্ধ্যে অবগত, যেখানে বলা হয়েছে ২০১৭ সালে ভারতে ২৪ লক্ষেরও বেশি শিশু নির্যাতিত হয়েছে এবং ২০২০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে মাসে প্রকাশিত রিপোর্টে ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড সংস্থা জানিয়েছে, যে সারা দেশে পকসো আইনের অধীনে ৪৭, ২২১ টি মামলা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও অল্পবয়সী ছেলেদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ব্যাপক।

পকসো আইনের উদ্দেশ্য হল শিশুদের যৌন নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা এবং এই বিষয়ে কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া। পকসো আইনের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধের শাস্তি নয়, যদি অপরাধের চেষ্টাও হয় এবং কোনো কারণে তা ব্যর্থ হয়, তাহলেও অপরাধীকে শাস্তি পেতে হবে। “সঠিক স্পর্শ” কোনটা “খারাপ স্পর্শ” কোনটা, সেটা শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে স্কুলের মাধ্যমে শিশুদের সচেতনতা তৈরি করার চেষ্টাও চলছে৷ এই পরিস্থিতিতে, বোম্বে হাইকোর্টের এই ধরনের বক্তব্য হতাশা ও আতঙ্কের কারণ। দুঃখের বিষয় যে এটি প্রথম উদাহরণ নয় যখন বিচার বিভাগের কিছু অংশ শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধকে হালকাভাবে বিবেচনা করেছে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ পকসো আইনে যৌন নিপীড়নের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, শুধুমাত্র যৌন অভিপ্রায়ের সঙ্গে “চামড়া থেকে চামড়া” যোগাযোগ ঘটলে তবেই তা অপরাধ বলে ধার্য হবে। ২০২১ সালের মার্চ মাসে এক যুবতী মহিলাকে ভারতের মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে জানাতে হয়েছিল যে বিচার চলাকালীন তার বিরুদ্ধে বিচারপতি অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তবে এটাও ঠিক যে লিঙ্গ ন্যায়ের বিষয়ে আমাদের বিচারপতিরা বহু যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন।

মহিলা স্বরাজ ভারতের মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাচ্ছে যে পকসো আইনের বিধানগুলি সংবেদনশীলতার সঙ্গে বোঝার জন্য বিচারপতিদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কথোপকথন শুরু করা হোক যাতে এই ঘৃণ্য অপরাধের শিকার শিশুরা ন্যায়বিচার পেতে পারে। এটা বিতর্ক ছাড়াই বুঝতে হবে যে শিশুরা নির্দোষ এবং তারা অপরাধীদের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের রক্ষা করতে হবে এবং অপরাধীদের আইন অনুযায়ী পূর্ণতম মাত্রায় শাস্তি দিতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *