পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৭ ফেব্রুয়ারি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সরস্বতী পুজোর ভিড়ে অন্যতম আকর্ষণ হলো শালবনীর মহাশোল গ্রামের শতাব্দী প্রাচীন লক্ষ্মী- সরস্বতী পুজো ও হরিবাসর। শুধু সরস্বতী নন, এখানে লক্ষ্মীও বোন হিসেবে প্রায় দেড়শো বছরের বেশি সময় ধরে পূজিত হয়ে আসছেন বসন্ত পঞ্চমীতে। আজ এক সাধারণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই পুজোতে গত পঞ্চাশ বছরের প্রাণপুরুষদের সংবর্ধনা জানানো হয় ও গ্রামের উপস্থিত সকলে শপথ নেন যাতে এই পুজো তারা আগামী দিনে ক্রমাগত চালিয়ে যেতে পারেন।

যারা এই সময় বেঁচে নেই তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মরণোত্তর সম্বর্ধনা দেওয়া হয় বগলা প্রসাদ সিংহ ও লছমন সিংহকে, এছাড়াও বর্তমান পুজোর কান্ডারী চিত্ত রঞ্জন সিংহ, নিরঞ্জন সিংহ, স্বপন সিংহ, নেপাল চন্দ্র সিংহ, সুব্রত সিংহ ও অরুণ সিংহকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রত্যেক বছর পুজো ও এই হরিনাম চলাকালীন যারা প্রাণপণ পরিশ্রম করেন সেই পুরোহিত সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়, ক্ষৌরকার শম্ভু মানা ও বাবলু মানা এবং ছড়িদার সুখদেব দাসকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই এলাকার বিশিষ্ট কীর্তন শিল্পী যিনি খুব ছোট থেকে এই মন্দিরে আসছেন সেই নাগেশ্বর মাইতিকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নতুন প্রজন্মের তরফ থেকে সকলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ও সংবর্ধনা তুলে দেন প্রত্যেক প্রাপকের হাতে একটি করে শাল, পুষ্পস্তবক এবং মিষ্টান্ন দেওয়া হয়।

এই হরিনাম সংকীর্তন প্রায় দেড়শো বছর ধরে মা লক্ষ্মী ও সরস্বতী পুজোর পরে ২৪ প্রহর হয়ে আসছে। এই উপলক্ষে প্রচুর মানুষের জনসমাগম ও মেলা হয়। মেলায় বিভিন্ন জিনিসের স্টল স্টল ও মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা থাকে।


