দিনে করোনায় মৃত্যু হতে পারে ১ হাজার মানুষের, সতর্কতা জারি মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্যমন্ত্রকের

আমাদের ভারত, ২৫ মার্চ: পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে করোনা প্রকোপ আরোও বাড়তে পারে মহারাষ্ট্রে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সেখানে দিনে গড়ে মৃত্যু হতে পারে হাজার জনের। বাড়তে পারে আক্রান্তের সংখ্যাও। এদিকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় টান পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। মহারাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এই উদ্বেগের কথাই জানিয়েছেন সে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে তরফে বলা হয়েছে দুই সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা আকাশ ছুঁতে পারে। পুনেতে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এর পরেই লাইনে থাকতে পারে নাগপুর ও মুম্বাই। একাধিক জেলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এরমধ্যে সবচেয়ে খারাপ হতে পারে নাগপুরে। আগামী ১১ দিনের মৃত্যু ৬৪ হাজারের গন্ডি পেরিয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে সপ্তাহে এক শতাংশ সংক্রমণ বৃদ্ধির হিসেব ধরেই এই সংখ্যা অনুমান করেছে সে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। মৃত্যুর হার ২.২৭ শতাংশ হিসেবে মহারাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৬১৩ হতে পারে বলে জানিয়েছে দপ্তর। পাশাপাশি মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ২৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৩৮২। আর গড়ে দৈনিক মৃত্যু হতে পারে ১ হাজার মানুষের।

বুধবার মহারাষ্ট্রে করানো আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৮৫৫ , মা করণা সংক্রমণে শুরু থেকেই হিসাব করলে যা সর্বোচ্চ। মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেব বলছে রোগীর সংখ্যার নিরিখে হাসপাতালে শয্যা থাকলেও তা অক্সিজেন সহায়তা সহ শয্যা নয়। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রায় ৪ হাজার অক্সিজেন সহায়ক শয্যা বৃদ্ধি করা দরকার। সবচেয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে নাগপুর ও ঠাণে জেলাকে। সেখানে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ফুরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে কয়েক দিনের মধ্যেই। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অবিলম্বে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

তবে মহারাষ্ট্রের চিকিৎসকদের একাংশের দাবি সরকারি তথ্য সঠিক নয়। শেষ তিন চারদিনের রাজ্যে লক্ষাধিক মানুষ করোনিয় আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্তদের ৪১% ভর্তি হয়েছেন হাসপাতলে। যার মধ্যে ৮% আশঙ্কাজনক ও ০.৭১ % ভেন্টিলেটরে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *