অধ্যাপক উত্তম অধিকারী
আমাদের ভারত, ৬ অক্টোবর: হালয়া একটি ধর্মীয় উৎসব। এর মধ্যে একাধিক ধর্মীয় কৃত্যের সমন্বয় ঘটেছে। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই শুক্লপক্ষকে বলা হয় দেবিপক্ষ। দেবীপক্ষের ঠিক আগে অর্থাৎ আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ঠিক আগের কৃষ্ণপক্ষকে বলা হয় অপরপক্ষ। অপর পক্ষের অমাবস্যা তিথিকে বলা হয় মহালয়া।
মহালায়া দুর্গা পূজার আগমনী ঘোষণা দেয় যে মা আসছেন। অন্যদিকে মহালায়া প্রয়াতঃ পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে, তাদের শ্রদ্ধা জানানোর তিথি। অগ্নিপুরানে কথিত আছে মহালয়ার দিন প্রয়াত পূর্বপুরুষেরা আমাদের কাছাকাছি নেমে আসেন এবং সুবর্ণ সুযোগ থাকে তাদের সারা বছরের জন্য তিল, জল দিয়ে সন্তুষ্ট রাখার। এই তিথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে বলা হয় তোমরা যেখানেই থাকো আমাদের আশীর্বাদ করো আমরা তোমাদের উদ্দেশ্য তর্পণ করলাম। তোমাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য তিল ও জল অর্পণ করলাম। ভগবান শ্রী বিষ্ণুর পাদপদ্দে তোমাদের স্থান হোক। তোমাদের ঐতিহ্য অনুসরণ করে আমরা যেন মহত্ত্বের পরিচয় দিতে পারি। মহালয়া প্রয়াত পূর্বপুরুষদের সাথে বর্তমানের যেন এক যোগসূত্র। পূর্বপুরুষদের সাথে বন্ধন অটুট রাখার মাধ্যম।
হিন্দু সংস্কৃতিতে জন্ম-জন্মান্তরের যে সম্পর্কের কথা বলি আমরা, প্রয়াত পূর্বপুরুষদের প্রতি (পূর্বপুরুষ বলতে এখানে নারী -পুরুষ নির্বিশেষে সকলের কথাই বলা হয়েছে) তর্পণ করে আমরা সেই সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে চলি। এই প্রেক্ষাপটের বাইরে বেরিয়ে যদি আমরা দেখি তবে বলা যায় মহালায়া বাঙালির আবেগ ও অনুভূতির সাথে জড়িত। বাল্য থেকে বৃদ্ধ সকলেই যেন দেবী দুর্গার আগমনীকে স্বাগত জানায়। মহালয়ার দিন যুবক যুবতীদের রাত জেগে পিকনিক, বালক বালিকাদের সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে শব্দ বাজি ফাটানো, বাড়ির বয়স্কদের রেডিও এবং টিভির সামনে অধীর আগ্রহে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চন্ডীপাঠ শোনার অপেক্ষার অবসান। বঙ্গীয় জীবনে ধর্মীয় রীতিনীতি, লৌকিকতা, আনন্দ -উল্লাসের এক সম্মিলিত রূপ মহালায়া।

