বাংলায় স্টেট স্পনসর্ড মাফিয়া গুণ্ডা রাজ চলছে, বগটুই কান্ড তারই ফলশ্রুতি, নাড্ডাকে রিপোর্ট কেন্দ্রীয় বিজেপির গঠিত কমিটির

আমাদের ভারত, ৩০ মার্চ: রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারার ভয়াবহ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিজেপি একটি সত্যতা যাচাই কমিটি করেছিল। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ সহ ৫ জনের এই কমিটি বগটুই ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করেছিল। বুধবার বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার হাতে তুলে দেয়। পুরো ঘটনাকে স্টেট স্পনসর্ড মাফিয়ারাজের ফলশ্রুতি বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। সূত্রের খবর, রিপোর্টে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের নাম আছে বলেও জানা যাচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে ও এই বিষয়ে কেন্দ্রকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, বাংলায় মাফিয়া রাজ চলছে। পুলিশ এবং শাসক দলের নেতাদের অঙ্গুলি হেলনে তান্ডব চলছে বাংলা জুড়ে। প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ মানুষের।

সাংসদ ব্রজলাল, সত্যপাল সিং, শ্রীরামামূর্তি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, জাতীয় মুখপাত্র ভারতী ঘোষের কমিটির দেওয়া
রিপোর্টে লেখা হয়েছে,

* বাংলায় তৃণমূলের শাসনের মাফিয়ারা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজত্ব করছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

* রাজ্যের যেসব নাগরিকরা আইনের শাসন মেনে চলতে চান সরকারের ওপর তারা সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছেন।

* বগটুই গ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে তা রাজ্য সরকার অনুমোদিত তোলাবাজির পরিণাম ছাড়া আর কিছুই নয়। কাটমানি তোলাবাজির ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে।

* বিজেপির অনুসন্ধানকারী দল কলকাতায় আসার পরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যাওয়ার পথে বিজেপি প্রতিনিধিদলকে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনীর বিজেপি দলকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পুলিশের কোন অফিসার বা আধিকারিক আমাদের উদ্ধার করতে আসেনি। আমরা ডিজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

* আমরা জানতে পেরেছি বগটুইয়ের পাশবিক ঘটনার সময় এসডিপিও এবং ইন্সপেক্টর অফ পুলিশ ঘটনাস্থলে সামনে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। আততায়ীদের আগুন লাগানোর থেকেও তারা বাধা দিতে পারেননি। তারা পদক্ষেপ নিলে হয়তো অনেকগুলি প্রাণ বেঁচে যেত।

* বগটুই গ্রামের সাধারণ মানুষেরা ভয়ে আছেন। এইচআরসি, জাতীয় মহিলা ও শিশু কমিশনের সদস্যরা সেখানে গিয়ে গ্রামের মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি চেষ্টা করেছেন।

* আমাদের সুপারিশে পশ্চিমবঙ্গে অল ইন্ডিয়া সার্ভিসের যেসব অফিসাররা কাজ করছেন তাদের সংবিধান অনুযায়ী যে দায়িত্ব রয়েছে সেটা তাদের মনে করানো প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত তাদের কড়াভাবে সতর্ক করা।

সূত্রের খবর এই রিপোর্টে নাম রয়েছে বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের। তার জন্যই এই নির্মম হত্যা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় প্রথমে সিট গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু পরে কলকাতা হাইকোর্ট এই তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। সিবিআই তদন্তের কাজ জোর কদমে শুরু করেছে। কিন্তু তার মাঝেই এই রিপোর্ট জমা দেওয়া নিয়ে দার্জিলিং থেকে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কথা বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার বগটুই তদন্তে নাক গলাচ্ছে। তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

চলতি মাসের ২১ তারিখ তৃণমূলের পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখের খুন হওয়ার ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে নারকীয় হামলা চলে। পোড়াবাড়ি থেকে সাতটি দেহ উদ্ধার করেছিল দমকল। পরের দিন ২২ মার্চ দুপুরে আরো একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার ৮ দিনের মাথায় গত সোমবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজেমা বিবির মৃত্যু হয়। ফলে সরকারি হিসেবে এখনো পর্যন্ত পুড়ে মৃত্যু হয়েছে নয়জনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *