স্বাধীনতার বীরাঙ্গনাদের নিয়ে মধুরিমার বই

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২৪ আগস্ট: স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হল। এর সুবাদে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বা হচ্ছে বিভিন্ন ভাষায়, নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকপাত এবং কিছু বইও। এ রকম একটা আবহে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে ডঃ মধুরিমা সেনের ’উওমেন ইন দি ওয়ার অফ ফ্রিডম আনভেলড বেঙ্গল ১৯১৯ – ১৯৪৭, গ্লিম্পসেস ফ্রম আর্কাইভাল রেকর্ডস’।

বইয়ের বিষয়ের চর্চার আগে লেখিকা সম্পর্কে একটু পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন। মধুরিমার জন্ম ১৯৬৭-তে। স্নাতকোত্তর পর্যন্ত ছিলেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়া। যাদবপুরে পিএইচ ডি করার পর দার্জিলিং লোরেটোয় শিক্ষকতা করেন। এর পর যোগ দেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীন স্টেট আর্কাইভসে। লিখেছেন বেশ কিছু মূল্যবান বই। সবই ইংরেজিতে। একটি সুপরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে জড়িত।

স্বাধীনতা সংগ্রামে যেসব বাঙালি মহিলা সক্রিয় অংশ নিয়েছেন, অভিজ্ঞরা নানা সময় তাঁদের ওপর বেশ কিছু বই লিখেছেন। মধুরিমা তাঁর লেখায় সেরকম পথে হাঁটতে চাননি। প্রকাশিত ওই সব বইয়ের ঘরানা থেকে একেবারে অন্যরকম ’উওমেন ইন দি ওয়ার অফ…’।

প্রকাশিতব্য বইটির মূল অধ্যায়গুলোর বাংলা করলে দাঁড়ায় প্রাককথন, বন্দিনী, দৃশ্যমান নথি, হেফাজতের বিশদ, পুস্তকপঞ্জী প্রভৃতি। প্রাককথনে ৪১টি নথির উৎসস্থলের উল্লেখ করে মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সংক্ষিপ্ত নানা কথা। আছে বর্ণানুক্রমে বন্দীনিদের নাম-তালিকা (তাঁদের নিবাস এবং কোন গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তার উল্লেখ সহ)। এ ঠাড়া ২৮টি পৃষ্ঠায় (আর্ট পেপার) ২৮ জন বীরাঙ্গণার ছবি।

বইটির একটি বড় আকর্ষণ অমিয় কুমার বাগচির চার পৃষ্ঠার মূল্যবান ভূমিকা। এই বইয়ের বিশেষত্ব ফুটে উঠেছে শেষ পরিচ্ছেদে। তিনি লিখেছেন, “…a rich treasure trove for future reasearchers. Apart from the information available about the more famous woman revolutionaries, each of all other enlisted revolutionaries would provide scope for reasearch by scholars.”

বইয়ের বিষয় এবং লেখার ওপর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের এমিরিটাস প্রফেসর প্রশান্ত রায়ের মূল্যায়ণ। ‘হাইফেন’ প্রকাশিত ১২২ পৃষ্ঠার বই, মূল্য ৪৭৫/-। ৩১ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশিষ্টদের উপস্থিতিতে হবে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *