আমাদের ভারত, ২০ মে: এসএসকেএম কান্ডে মদন মিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দশ্যে বলেছেন, আমার সঙ্গে যা করার করুন, আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি করবেন না। আর মদন মিত্রের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল কী কী করতে পারেন, কতদূর যেতে পারেন তার একেবারে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন মদন, বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা বলেন, মদন মিত্রের কথায় প্রমাণিত যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লোকের ক্ষতি করেন। সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “মদন মিত্র প্রমাণ করে দিয়েছেন তার মত দোর্দণ্ড প্রতাপ নেতা যে নাকি গুন্ডামি করে, মুখ্যমন্ত্রী তার বাড়ির লোকেরও ক্ষতি করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল কি কি করতে পারে মদন মিত্র সেটা হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন।”
সুকান্ত বলেন, মদন মিত্র অনেক দিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ। অনেকদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে একাধিক কথা বলছেন বটে, তবে মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত। মদনদা বলেছিলেন সিপিএম আমলে ১০ মিনিটে পেসেন্ট ভর্তি করে দিতাম। এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন অবস্থা। মদন মিত্রের কথা থেকেই প্রমাণিত মুখ্যমন্ত্রী যে দাবিগুলো করেন সে দাবিগুলো মিথ্যে দাবি। সুকান্তর কথায়, “মু্খ্যমন্ত্রীর কথা যে ভুল, সেটা তার দলের লোকেরাই প্রমাণ করছে।”
মদন মিত্র বলেছেন, গত ৫ বছরে মু্খ্যমন্ত্রী তার সঙ্গে ৫ মিনিটও কথা বলেননি। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলো কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরলেই পাজি। তার কথায়, “এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদন মিত্রের দিদি নেই। এখন শুধু পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। ভাইপো ছাড়া তিনি আর কারো সাথে সেভাবে কথা বলেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কাজের বেলায় কাজী কাজ ফুরলেই পাজি, এটা সবথেকে ভালো বলতে পারবেন কিষেনজি।”
প্রসঙ্গত, এসএসকেএম হাসপাতালে রোগী ভর্তি নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন মদন মিত্র এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন এসএসকেএম কর্তৃপক্ষ। এরকম এক পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হতে পারেন এই আশঙ্কায়, জামা কাপড় নিয়েই বাইরে বেরিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কামারহাটের বিধায়ক। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দশ্যে একরাশ অভিমান ঝরেছে তার গলায়। মদন মিত্র বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি কোনো নির্দেশ থাকে তাহলে তিনি অবশ্যই মেনে নেবেন। কিন্তু তার অধীনস্থ কারো কথা তিনি শুনবেন না। তাতে জেলে যদি যেতে হয় যাবেন।” জেলে গেলে পার্থদার সঙ্গে দেখা হবে।
অনেকে আমাকে বলেছে আপনি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ ফুটে বলবেন গত পাঁচ বছরের তিনি ৫ মিনিট আমার সঙ্গে কথা বলেছেন কি না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকার জন্য জেলে থেকেছি। ফিরহাদ হাকিম তাকে ফোন করেছিলেন। তাকে তিনি বলেছেন, গত রাতে কি কি ঘটনা ঘটেছে? ববি আমাকে বলে গুন্ডামি করেছি। প্রমাণ করতে পারলেই ইস্তফা দিয়ে দেব। আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন আমার পরিবারের উপর যেন আক্রমণ না হয়। আমার পরিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটার।”
শুক্রবার রাতে বাইক দুর্ঘটনায় আহত শুভদীপ পাল নামে এক যুবক যিনি চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেলের টেকনিশিয়ান তাকে এসএসকেএমে ভর্তি করাতে যান খোদ মদন মিত্র। কামারহাটির বিধায়কের দাবি, প্রায় ছয় ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্সে পড়ে থাকতে হয়েছে রোগীকে। হাসপাতালে ঢোকার মুখে পুলিশ এবং হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন মদন মিত্র। মেডিকেল অফিসারকে ডাকার কথা বলেন। মদনের প্রশ্ন ল্যাব টেকনিশিয়ানের যদি এই অবস্থা হয় তবে সাধারণ মানুষের কি হবে? বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, টাকার খেলা চলছে। টাকা দিলে তবেই স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, ট্রমা কেয়ার তৈরি হয়েছে জনগণের জন্য। কোনো দাদা বাবা বা অন্য কারো নয়।
তাঁর দাবি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আমাকে বলেন, আমায় তো বলছো, কিন্তু কাউকে তো পাবো না। না মানে? ট্রমা কেয়ারে তো ২৪ ঘন্টা পরিষেবা দেওয়ার কথা। ডিরেক্টর এবং এমও কেউ ফোন ধরে না। সাস্থ্য মন্ত্রীও জানান, কাউকে ধরা যাবে না। রাত হয়ে গিয়েছে। আমি মদন মিত্র, এটা সিপিএমের আমল হলে এক মিনিট লাগতো ভর্তি করতে। এরপরই তিনি মু্খ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন এবং এসএসকেএম বয়কটেরও দাবি জানান। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

