আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৮ অক্টোবর: “নিজের ভাইপোকে বাঁচাতে তৃণমূলের সব বদ গুলোকে পাঁঠার বলি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কালীঘাটের মা কালী সব বদ গুলোর মুণ্ড না নিয়ে খান্ত হবেন না”। মঙ্গলবার বীরভূমের মাড়গ্রামে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম।
এদিন বেলার দিকে বীরভূমের হাঁসন বিধানসভার মাড়গ্রামে একটি পদযাত্রার আয়োজন করে সিপিএম। পদযাত্রা শেষে একটি পথসভাও করা হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাসক দল তৃণমূলকে আক্রমণ করেন মহম্মদ সেলিম। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “চোরের রাণী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে বাঁচতে এবং ভাইপোকে বাঁচাতে সকলকে বলির পাঁঠা করছেন। প্রথমে আনিস খান হত্যায় ধৃত পুলিশ কর্মীরা বলেছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন। দুদিন পর অনুব্রত মণ্ডলও বলবেন। প্রথমে ভেবেছিলেন
আরএসএস, বিজেপিকে ধরে অনুব্রতকে বাঁচাবেন। সেই সেটিং না হওয়ায় অনুব্রতকে বীরের সম্মান দিয়ে তার জেলে বন্দি থাকার ব্যবস্থা পাকা করেছেন। আগামীদিনে আরও চোরদের জেলে ঢোকানো হবে”।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের উন্নয়ন বাহিনী মুখ ঢেকে সন্ত্রাস চালিয়েছিল। কিন্তু এবার আর পারবে না বলে দাবি করেন সেলিম। তিনি বলেন, “যারা মুখ ঢেকেছিল সেই কিষানজি, ছত্রধর মাহাত এবং তৃণমূল নেতাদের মুখোশ খুলে গিয়েছে। ফলে এখন আর কেউ মুখে ঢেকে যৌথভাবে সন্ত্রাস চালাতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকদিন ধরে ঘুমটা টেনে খেমটা নাচ নেচেছেন। তাতে রাজ্যের গণতন্ত্র নিধন হয়েছে। মানুষের ঐক্য ভেঙেছে। কিন্তু মানুষ পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আর তাদের ঐক্য ভাঙ্গা যাবে না। এতদিন বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে ঐক্য ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এতদিন তাদের আন্দোলনে নামার ধক ছিল না। কিন্তু এবার চাকরি প্রার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের হকের চাকরির দাবিতে। আমরা তাদের পাশে থেকে সাহায্য করে যাচ্ছি। সল্টলেকে টেট উত্তীর্ণদের পাশে আমরা রয়েছি। তাদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক পাঠানো হয়েছে”।
পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা লুঠ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কারণ তারাও লুঠের টাকার বখরা পায়। আমরা চাই মানুষের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হোক। আমাদের দাবিতে সরকার গ্রামসভা ডাকার নোটিশ জারি করেছে। আমরা চাইবো কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বিডিও এবং এসডিও’রা গ্রামসভা ডেকে মানুষের হকের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিক। নইলে আমরা দুর্নীতির কাগজপত্র নিয়ে বি এবং এস ডি ও অফিসে চড়াও হব”।

