আমাদের ভারত, ১৪ নভেম্বর: লিভ ইন সম্পর্কে থাকা প্রেমিকার সঙ্গে ঝগড়ার কারণে সঙ্গীর দেহ কেটে ৩৫ টুকরো করে ফেলল প্রেমিক। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দিল্লিতে ঘটেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠেছে গোটা দেশবাসী। অভিযুক্তের নাম আফতাব আমিন পুনাওয়ালা। বয়স ২৮ বছর।
জানা গেছে, বান্ধবীকে সে প্রথমে দম বন্ধ করে হত্যা করে। তারপর তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলে আফতাব। দিল্লির মেহেরোলীর এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় হচ্ছে দেশ। লিভ ইন সম্পর্কে থাকা সঙ্গীর দেহ টুকরো টুকরো করে ১৮ দিন ধরে তা জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসছিল আফতাব। জানা যাচ্ছে প্রত্যেকদিন রাত দুটোর সময় অভিযুক্ত যুবক বাড়ি থেকে বেরিয়ে জঙ্গলে দেহের টুকরো ফেলতে যেতো।
অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার লিভিং পার্টনার শ্রদ্ধা ওয়াকারের গলা টিপে ধরেন। এরপর তার দেহ ৩৫ টুকরো করে আফতাব। জানা গেছে, দেহের টুকরো রাখার জন্য ৩০০ লিটার একটি ফ্রিজও নাকি কিনেছিল ওই যুবক। এরপর ১৮ দিন ধরে মেহেরলীর জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় টুকরো গুলি ফেলতে থাকে আফতাব।
পুলিশ সূত্রে খবর, কর্মসূত্রে মুম্বাইতে দুজনের আলাপ ও প্রেম। এপ্রিলের শেষের দিকে বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা দিল্লি চলে আসে। শ্রদ্ধার পরিবারের তরফে তাদের সম্পর্কে মত না থাকায় তারা দিল্লি চলে আসে। মে মাসের মাঝের দিকে বিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। সমস্যা বাড়তে থাকলে প্রেমিকার ওপর চড়াও হয় আফতাব।
২৬ বছরের শ্রদ্ধা মুম্বাইয়ের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কল সেন্টারে চাকরি করতেন। আফতাবের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে একসঙ্গে থাকতে শুরু করে তারা। শ্রদ্ধার পরিবারের তরফ থেকে এই সম্পর্কে বিরোধিতা করলে তারা মুম্বাই থেকে পালিয়ে দিল্লিতে এসে থাকতে শুরু করেন মেহেরলীর একটি ফ্ল্যাটে। দুর্ঘটনার পর শ্রদ্ধার এক বন্ধু তার দাদাকে খবর দেয় যে প্রায় দুমাসের বেশি সময় ধরে তার ফোন সুইচ অফ। ৮ নভেম্বর শ্রদ্ধার বাবা বিকাশ মদন ওয়াকার মেয়ের খোঁজে দিল্লিতে এসে ফ্ল্যাটে তালা ঝোলানো দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করার সময় জানিয়েছিলেন, শ্রদ্ধা তাকে বলেছিল আফতাব তাকে মারধর করে প্রায়ই। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার আফতাবকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত স্বীকার করে যে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, কারণ শ্রদ্ধা তাকে বিয়ে করতে চাইতেন। শ্রদ্ধার আগেও একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছিল আফতাব বলে খবর।
খুনের মামলা হয়েছে আফতাবের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গল থেকে দেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেটা মানুষের দেহের অংশ কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত একজন শেফ। অনুমান তার কাজের ছুরি ব্যবহার করেই এই ঘটনা সে ঘটিয়েছে। যদিও সেই ছুড়ি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

