আমাদের ভারত, ২৮ নভেম্বর: যোগী সরকারের বুলডোজার মডেল ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলেছে গোটা দেশে। এবার যোগী সরকারের লাউড স্পিকার খুলে দেওয়ার মডেলও খবরের শিরোনামে চলে এলো। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিজের আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, মসজিদের আজান হোক বা মন্দিরের আরতি, যে কোনো ধর্মীয় জায়গায় লাউডস্পিকার নিয়ম ভাঙলে তা খুলে দিতে হবে।
উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজ্যজুড়ে এখন মাইকের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছে। মসজিদ, মন্দির বা অন্য স্থানে গিয়ে লাউড স্পিকার পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তার শব্দ সরকার নির্ধারিত মানের থেকে বেশি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাইকের বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশ সরকারের এই অভিযান সকাল পাঁচটা থেকে ৭টা পর্যন্ত চলছে। সন্ধের সময়েও চেকিং করা হচ্ছে। ২৩ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি, চলবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সরকার জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ৬১ হাজার ৩৯৯টি মাইক চেক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭২২৮টি মাইকের ভলিউম কমিয়ে মান অনুযায়ী আনা হয়েছে। ৩২৩৮টি মাইক সরানো হয়েছে। এই অভিযানের জন্য উত্তর প্রদেশ সরকার প্রতিটি জেলায় একটি দল গঠন করেছে। যারা ধর্মীয় স্থানের পাশাপাশি পাবলিক প্লেসে থাকা অবৈধ মাইকের পরীক্ষা করছে।
উত্তরপ্রদেশের কানপুরের একাধিক মসজিদ থেকে লাউড স্পিকার যেমন খোলা হয়েছে তেমনি নয়ডার মন্দির, মসজিদ দুই জায়গা থেকেই লাউড স্পিকার খুলে ফেলা হয়েছে। যেখানেই লাউডস্পিকার তার আইন ভেঙেছে সেখান থেকে লাউড স্পিকার খুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্মৌ থেকে কিছু দূরে থাকা বারাবাকি মসজিদের মিনার থেকেও লাউড স্পিকার খুলে ফেলা হয়েছে। এই মসজিদ থেকে লাগাতার আজান চলত। বড় বড় শহরে একেবারে অ্যাকশন মোডে দেখা যাচ্ছে যোগী রাজ্যের পুলিশকে। আবার ফতেপুরের মন্দিরের শীর্ষ স্তম্ভ থেকেও লাউড স্পিকার খুলেছে পুলিশ।
তবে লাউড স্পিকার নিয়ে এই হইচই নতুন নয়। গত বছরের মে মাসে উত্তরপ্রদেশে ৫৪ হাজারেরও বেশি মসজিদ থেকে মাইক সরানো হয়। কয়েক বছর আগে বলিউড গায়ক সনু নিগম মাইক নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সকালে মাইকের উচ্চ শব্দে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

