জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৬ সেপ্টম্বর: স্কুলের নলকূপে বিকট শব্দ। তীব্র গতিতে ঝাঁঝালো গ্যাস বেরোনোকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়াল এলাকায়। আতঙ্কে স্কুলমুখী হল না পড়ুয়ারা। শুক্রবার সকালে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো অন্ডালে সিঁদুলি এলাকায়। ঘটনার জেরে এদিন পড়ুয়াদের ছুটি দিয়ে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালো ইসিএলের বিশেষজ্ঞ দল। সিল করা হল ওই নলকূপ।
ঘটনায় জানা গেছে, অন্ডালের খান্দরা পঞ্চায়েতের সিঁদুলি দিঘিরবাধ এলাকায় রয়েছে আদিবাসী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরকারি বিদ্যালয়টিতে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে সংস্কারের কাজ। শুক্রবার সকালে কাজ করার সময় কর্মরত মিস্ত্রিরা লক্ষ্য করেন বিদ্যালয়ের একটি নলকূপ থেকে বিকট শব্দের পাশাপাশি বের হচ্ছে তীব্র গতিতে ঝাঁঝালো গ্যাস। কিছুক্ষণের মধ্যে গোটা এলাকা-তে সেই গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্কুল চত্বরে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা। আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়। স্কুলের কিছুটা দূরে শঙ্করপুর খোলামুখ কয়লাখনি।
বাসিন্দারা জানান,
“ঝাঁঝালো গ্যাসের কারণে শ্বাস নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এই অবস্থায় পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠানো বিপদজনক।”
খবর পেয়ে স্কুলে পৌঁছায় অন্ডাল থানার পুলিশ ও সিঁদুলী কোলিয়ারির বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা। তারা তৎপরতার সঙ্গে ওই নলকূপ সিল করে দেয়। এবং পরীক্ষার জন্য
বের হওয়া গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, “দূষিত গ্যাস। খনির নিচে থেকে কয়লা কাটার পর মাটি ফুঁড়ে এই ধরনের গ্যাস বের হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে গ্রামের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় ধস নামে। এমনকি আস্ত একটা কুয়ো ও জলাশয় ধসে তলিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবে এদিনের ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। যদিও ঘটনার পর স্কুলমুখী হয়নি পড়ুয়ারা। এমনকি দুর্ঘটনার আশঙ্কায় এদিন বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
খান্দরা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামলেন্দু অধিকারী জানান, “ইসিএলের অপরিকল্পিতভাবে কয়লা উত্তোলনের ফলে প্রায়ই এধরনের ঘটনা ঘটে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।”
স্কুল সুত্রে জানা গেছে, স্কুলে দুটি নলকূপ ও একটি কুঁয়ো রয়েছে। নলকূপ দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে। কল দুটি সিল করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কারণে এদিন স্কুল ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
যদিও ইসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নলকূপটি সিল করা হয়েছে। কি কারণে গ্যাস বের হচ্ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

