‘অভিষেকের মদতে রাজ্যজুড়ে লটারি কেলেঙ্কারি চলছে,’ অভিযোগ শুভেন্দুর

আমাদের ভারত, ২৯ জুলাই: চিটফান্ডের মত আরেকটি কেলেঙ্কারিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার অভিযোগ, এই কেলেঙ্কারি চিটফান্ডের থেকেও বড়। পরিকল্পিতভাবে এটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের সর্বত্র। শুধু তাই নয়, তার অভিযোগ, পুরস্কার কে পাবে তাও আগের থেকে ঠিক করে রাখা হয়। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম পুরস্কার ওঠে অবিকৃত টিকিট থেকে, ফলে সেই টাকা কেউই পায় না।

শুক্রবার শুভেন্দুবাবু লিখেছেন, “কেন্দ্রে অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া পদক্ষেপের ফলে গরু পাচার, কয়লা চুরি করতে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় এবং আমদানিতে টান পড়ায়, এক নতুন পন্থা আবিষ্কার করে দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত পিসিমণির তোলাবাজ ভাইপোর উর্বর মস্তিষ্ক। সুপরিকল্পিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত লটারি ব্যবসাকে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে, রাজ্যে ধূমকেতুর মতো উত্থান ঘটানো হয় ‘ডিয়ার লটারি-র’। এটি চিটফান্ডের মত আরেকটি স্ক্যাম।

আড়ে-বহরে চিটফান্ড কান্ড থেকেও আর্থিক ভাবে অনেক বেশি বড় আকারের দুর্নীতি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আবারও একবার সর্বস্বান্ত করার ফাঁদ পেতেছে তোলামূল কংগ্রেস। এবার পন্থা হলো সংগঠিত আইনি জুয়া।

এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে কাজকর্মের অভাব, রুজি-রুটিতে টান। বেকারের সংখ্যা প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন রেকর্ড গড়েছে। এমতাবস্থায়, ভাগ্যের হাল ফেরাতে ও সংসারের চাহিদা মেটাতে অনেকেই লটারির দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু মাদকের সমতুল্য এই নেশা। ক্ষতি হচ্ছে বুঝেও একটা সময়ে ফেরার জায়গা থাকে না গ্রাহকদের। রোজ হারলেও একটা বড় সংখ্যার ক্রেতা জেতার আশায় রোজ খেলে যায়।

তোলাবাজ ভাইপো ঠিক এই সুযোগের ফায়দা তুলতে তৎপর হয়। সহজে উপলদ্ধ করতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় লটারির ব্যবসাকে। বাড়ানো হয় স্টকিস্ট, সাব-স্টকিস্টের সংখ্যা। এক একটি মহকুমায় নাকি বিক্রেতার সংখ্যা লক্ষাধিক পেরিয়েছে। শহরের ব্যস্ত মোড় হোক অথবা কানা গলি, প্রত্যন্ত গ্রামের ছাদহীন গুমটি দোকান, প্রায় প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, সর্বত্র লটারি বিক্রেতার দর্শন মেলে সহজেই। কমপক্ষে দিনে এক কোটি টাকার উপর টিকিট বিক্রি হচ্ছে একটি মহকুমাতেই। সারা রাজ্যে সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে অনুমান করে দেখুন।

একবার পরিকাঠামো গড়ে ফেলার পর শুরু হয় আসল খেলা। অধিকাংশ দিনই প্রথম পুরস্কার বা বড় অঙ্কের পুরস্কার উঠছে অবিক্রিত টিকিটের উপর৷ লটারির বিক্রেতা থেকে ক্রেতা, সকলেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। যে টিকিট পাওয়াই যাচ্ছে না সেই টিকিটেই নাকি প্রায়শই প্রথম পুরস্কার উঠছে৷

প্রশ্ন উঠছে, যে টিকিট বিক্রিই হচ্ছে না, সেই টিকিটে খেলা হচ্ছে কী করে? কিন্তু এর কোনও সদুত্তর নেই। কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে প্রতিমাসে। সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে তোলা হচ্ছে এই টাকা। এ এক বিরাট দুর্নীতি।

আবার এমনও হচ্ছে কে পুরস্কার জিতবে তার লিস্ট আগে থেকেই তোলাবাজ ভাইপো নির্ধারিত করে দিচ্ছে। নয়তো, বীরভূমের বাহুবলী গরু পাচারকারী নেতা লটারিতে ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছে, এমন খবর চাউর হয় কী করে?

আমি সবাইকে অনুরোধ জানাই, তোলাবাজ ভাইপোর এই অনৈতিক ব্যবসার ফাঁদে পা দেবেন না। আপনাদের কষ্টার্জিত টাকা মেরে ফুলে ফেঁপে উঠছে। কোনোদিন টিভির পর্দায় দেখবেন আপনাদের থেকে লুটে নেওয়া টাকা উদ্ধার হচ্ছে কোনো বিলাসবহুল আবাসন থেকে আর টাকা গোনার মেশিন নিয়ে আধিকারিকরা বেশ কয়েক দিন ধরে তা গুণেই চলেছেন; প্রথম, দ্বিতীয়….একশত তম রাউন্ড….।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *