আমাদের ভারত, ৯ নভেম্বর: ঘরে ঘরে জঙ্গি তৈরি করার হাতিয়ার হিসেবে রোহিঙ্গা মেয়েদের ব্যবহার করছে সন্ত্রাসবাদীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন জঙ্গি মডিউল তৈরি হচ্ছে রোহিঙ্গাদের নিয়েই। বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে মহিলা রোহিঙ্গাদের পাচার করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্যদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর তার থেকে যে পরিবার তৈরি হচ্ছে তাতে তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহজেই জেহাদি তৈরি করা যায়। নাশকতার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে জঙ্গিরা। এমনই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে এনআইএ’র তদন্তে বলে সূত্রের খবর।
শুধু ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নয়, বর্তমানে বাংলাদেশ, মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিতেও আশ্রয় হিসেবে কাজ করছে এই রোহিঙ্গা মহিলারা। আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সহজেই তারা বাড়িতে আশ্রয় দিচ্ছে জেহাদের উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশে আসা রোহিঙ্গাদের। এমনকি বাইরে থেকে আসা রোহিঙ্গারা ওই মহিলাদের পরিচয়ে সহজেই বাড়ি ভাড়াও পেয়ে যাচ্ছে। বুধবার এনআইএ বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করলেও এখনো মহিলা পাচারকারীরা অধরা আছে বলে শোনা যাচ্ছে।
ইন্দো- বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এদেশে অনুপ্রবেশ করে ভুয়ো পরিচয়ে বসবাস করছেন রোহিঙ্গারা। এনআইএ তদন্তে নেমে জানতে পারে যে মূলত মায়ানমার, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের পাচার করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের দিয়ে কীভাবে হামলা চালানো যায় সেই ছক করা হচ্ছে। হামলা চালানোর জন্য তাদের অস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জেহাদি ভাষণ দেওয়ার জন্য স্লিপার সেল তৈরি করা হচ্ছে।
বুধবার দেশজুড়ে অভিযানে নামে এনআইএ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা, বারাসাত, গাইঘাটায় তল্লাশি চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের প্রত্যেকের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

