“বালুরঘাট থেকে একবছরের মধ্যেই ছুটবে দিল্লি ও চেন্নাইগামী দুরপাল্লার ট্রেন”, বললেন উত্তর পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১১ ফেব্রুয়ারি: এক বছরের মধ্যেই বালুরঘাট থেকে ছুটবে দিল্লি ও চেন্নাইগামী দূরপাল্লার ট্রেন। শুক্রবার সকালে বালুরঘাট রেলবস্টেশন পরিদর্শন করে জানালেন উত্তর পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অংশুল গুপ্তা। যা সম্পন্ন করবার লক্ষ্যে ১৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সিক ও পিট লাইনের টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে এদিন। একইসাথে শুক্রবার থেকেই বালুরঘাট, কলকাতা ও শিলিগুড়িগামী সব ট্রেনেই পার্সেল বুক বা লাগেজ রেক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে রেলের তরফে। যার মাধ্যমে এখন থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে মালপত্র অন্যত্র আদান-প্রদান করা যাবে বলেও জানা গিয়েছে।

দক্ষিণ দিনাজপুরে রেলের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সকালে একটি স্পেশাল ট্রেনে করে বালুরঘাট রেল স্টেশনে এসে পৌঁছায় উত্তর পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অংশুল গুপ্তা। যেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর পূর্ব রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের আইজি প্রণব কুমার, ডিআরএম শুভেন্দু কুমার চৌধুরী সহ রেলের বিভিন্ন আধিকারিকরা।

এদিন প্রথমেই রেল স্টেশন চত্বরের নানা জায়গা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন তারা। পরবর্তীতে সাংবাদিক বৈঠক করেন রেলের আধিকারিকরা। বালুরঘাট থেকে ফেরার পথে গঙ্গারামপুর, বুনিয়াদপুর রেল স্টেশনও পরিদর্শন করেন ওই বিশেষ টিম। যার পরেই উঠে এসেছে একাধিক উন্নীতকরণের বিষয়। যার মধ্যে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য ওয়েটিং হল রুমকে আরও উন্নতকরণ করা হবে। যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে এস্কেলেটরের ব্যবস্থা করা হবে। জেলার বিভিন্ন আন্ডারপাসে জল জমার সমস্যা রয়েছে, সেই সমস্যাগুলিও এদিন সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন জিএম। এদিন বালুরঘাট স্টেশনে এসে রেলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জেনেরাল ম্যানেজার ও ডিআরএমের সাথে কথা বলেছেন তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু। দেখা করেছেন চেম্বার অফ কমার্স এবং জেলার বিভিন্ন রেল উন্নয়ন কমিটির সদস্যরাও। শিলিগুড়ির ইন্টারসিটি ট্রেনটিকে রাতে চালু করা সহ সিগন্যাল, ইলেক্ট্রিফিকেশন সহ নানা পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে তাদের তরফেও। এছাড়াও চেম্বার অফ কমার্সের তরফে বালুরঘাট রেল স্টেশনে রেক পয়েন্টের দাবি জানানো হয়েছে। যে সমস্ত দাবিগুলিও খতিয়ে দেখবার আশ্বাস দিয়েছেন নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনেরাল ম্যানেজার। তবে বালুরঘাট স্টেশনে পিট ও সিক লাইনের কাজ দ্রুত শেষ করবার কথা জানিয়েছেন জিএম। যাতে করে দিল্লি, চেন্নাই ও কলকাতাগামী দূরপাল্লার ট্রেন অতিদ্রুত চালু করা যায়। এই পিট ও সিক লাইন হলে এলাকায় কর্মসংস্থানও বাড়বে বলেও জানিয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার। ইতিমধ্যেই যার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১৫ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যার টেন্ডার প্রক্রিয়াও এদিন সম্পন্ন হয়েছে।

উত্তর পূর্ব রেলের জেনেরাল ম্যানেজার অংশুল গুপ্তা বলেন, রেলের সেফটি ও যাত্রীদের নানা সুবিধা দেওয়ার জন্য আমাদের দপ্তরের পুরো টিম পরিদর্শন করতে এসেছিলাম। এখানে পিট ও সিক লাইনের কাজ অনুমোদিত হয়েছে। যে কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া আজ খোলা হবে। এক বছরের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে। যারপরেই দূরপাল্লার ট্রেনগুলি চালানো সম্ভব হবে। এছাড়াও হিলি রেল লাইন সম্প্রসারণের জন্য রাজ্য সরকারকে জমি অধিগ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ হলেই এই কাজ দ্রুত শেষ হবে। এছাড়াও আজ থেকেই বালুরঘাট থেকে পার্সেল বুকিং করা যাবে। পাশাপাশি আমরা এখানকার স্টেশনগুলির সমস্ত পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছি। সেগুলিতে আগামীতে নানা সুবিধা ও উন্নতির পরিকল্পনা করেছি।

তপনের বিধায়ক বুধরাই টুডু জানিয়েছেন, জেলায় রেলের বিভিন্ন আন্ডারপাস নিয়ে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছে। যে বিষয়টি জানাবার পাশাপাশি গৌড় লিঙ্কে দ্রুত জেনারেল কামরা চালু করবার দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *