Lok Janashakti, Midnapur, মেদিনীপুরে শক্তি প্রদর্শন লোক জনশক্তি পার্টির, যোগদান করলেন ৫০ জন কর্মী

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ জানুয়ারি: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ল। শনিবার মেদিনীপুর শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি করল রামবিলাস পাসোয়ানের প্রতিষ্ঠিত দল লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি)। শহরের রাঙামাটি এলাকার একটি আবাসনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোক জনশক্তি পার্টির সাংসদ রাজেশ ভার্মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ রফিক আলি শেখ, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সভাপতি সোমনাথ পাণ্ডে-সহ দলের অন্যান্য রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতৃত্ব।

এদিন পুরুলিয়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫০ জন কর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে লোক জনশক্তি পার্টিতে যোগদান করেন। নবাগত কর্মীদের দলীয় পতাকা ও ব্যাজ পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে স্বাগত জানান নেতৃত্বরা। এই যোগদানকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজেশ ভার্মা বলেন, “আমরা বাংলায় কতগুলি আসনে প্রার্থী দেব, সেটাই মুখ্য বিষয় নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই রাজ্যে এনডিএ সরকার গঠন করা। এনডিএ-কে শক্তিশালী করতেই আমরা পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন মজবুত করার কাজ করছি।”

তিনি রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করে আরও বলেন, “এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ দরিদ্র মানুষের পাশে নেই, বরং দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষা করতেই তিনি বেশি ব্যস্ত। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন।”

দলের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ রফিক আলি শেখ জানান, লোক জনশক্তি পার্টি ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও বড় আকারে কর্মসূচি নেওয়া হবে।

জেলা সভাপতি সোমনাথ পাণ্ডে বলেন, মেদিনীপুর ও সংলগ্ন এলাকায় দলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, যার প্রমাণ এদিনের যোগদান কর্মসূচি। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচিও পালন করা হয়। এদিন প্রায় হাজার খানেক দুঃস্থদের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের কর্মসূচি ও দলবদল রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। লোক জনশক্তি পার্টির এই উপস্থিতি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে এনডিএ-র রাজনৈতিক রণকৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *