স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৯ এপ্রিল: নিজের স্কুলের নাম বলতে পারছে না স্কুলেরই ছাত্র। এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রীই হোক কিংবা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী সবার নামই অজানা। শুধু তাই নয় অঙ্ক বা ইংরেজি সবেতেই যেন তালগোল পাকিয়ে গেছে পড়ুয়াদের। লেখাপড়ার এমনই বেহাল দশা উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ব্লকের ধরমপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চুরাকুটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের। কারণটা হল, স্কুলে আসেন না শিক্ষকরা। আর যার ফল ভুগতে হচ্ছে পড়ুয়াদের।
প্রায় চার বছর ধরে আসেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, মোট চারজনের মধ্যে শুধু যেন দায়সাড়া ভাবে একজন শিক্ষক এসে কোনো রকমে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল খাইয়েই কেটে পড়েন। এতে দিনে দিনে ওই স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে গ্রামের পড়ুয়ারা। নতুন করে কেউ আর সেখানে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করাতে চান না। আর ওই শিক্ষা কেন্দ্রের লেখাপড়ার মান এতটাই খারাপ যে সেখানকার পড়ুয়াদের অন্য স্কুলেও ভর্তি নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। অথচ রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রেরই এই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের এই বেহাল দশা। যাতে হতবাক স্থানীয়রাও। শুক্রবার দুপুরে স্কুলে এক শিক্ষক আসতেই তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে হাল ফেরাতে হবে নইলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।

ইতিপূর্বে ওই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক সহ অন্যান্য শিক্ষেকরা নিয়মিত স্কুলে না আসা বা মিড ডে মিল সঠিকভাবে না হওয়া নিয়ে অভিযোগও দায়ের হয় স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও আবারো সেই একই অবস্থা।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জানিয়েছেন, এভাবে চললে তারা আবারো প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন। এখন এই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের লেখাপড়ার বেহাল অবস্থার প্রমাণ দিচ্ছে পড়ুয়ারাই। শিক্ষকের অভাবে পঠন পাঠন না হওয়া বা অব্যবস্থার সবটাই অভিযোগ তুলেছে তারাও। এখন জেলার প্রান্তিক বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকার এই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের পড়ুয়াদের সঠিক শিক্ষা দিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় মানুষ।

