জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর, ১৫ জুলাই: বিশ্বজুড়ে করোনার মারণ থাবা। তারওপর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ যেন রূষ্ট হয়েছে প্রকৃতি। কোথাও নির্বিচারে সবুজ ধ্বংস। আবার কোথাও অবাধে দূষণ সৃষ্টিকারি প্লাস্টিকের ব্যাবহার। আবার কোথাও কলকারখানার কালো ধোঁয়ায় গ্রাস করছে গোটা পরিবেশ। আর তাই ‘সুরক্ষিত গাছ, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সচেতনতার প্রচারে নামল কাঁকসার সিলামপুরের ইশমাতারার পাঠশালা।
বৃহঃস্পতিবার অরোণ্যসপ্তাহ উপলক্ষ্যে সিলামপুরে নিজের খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে সচেতনতার প্রচারে নামেন ইশমাতারা। এদিন সকালে সিলামপুর গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়ুয়াদের নিয়ে শোভাযাত্রা করে। পড়ুয়াদের হাতে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সবুজ বাঁচানোর বার্তা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিল। ইংরাজি বাংলায় নানান স্লোগান। আবার কারও প্ল্যাকার্ডে হারিয়ে যাওয়া প্রজাপতি, মৌমাছিদের ফিরিয়ে দেওয়ার করুন অর্তি। কারও প্ল্যাকার্ডে ‘জীবন কে ভালোবাসলে গাছ লাগান’।
এদিন শোভাযাত্রা শেষে সবুজ রক্ষার্থে গাছে মাস্ক বাঁধে পড়ুয়ারা। তারপর সিলামপুর হাইস্কুল চত্বরে ৫০টির মত চারাগাছ লাগায়। একই সঙ্গে বাড়িতে লাগানোর জন্য পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মূল্যবান মেহগিনি গাছ। এদিনের পড়ুয়াদের কর্মসূচিতে ১০০ টি চারাগাছ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বনদফতর। গৃহশিক্ষিকা ইশমাতারা খাতুন বলেন, “আমরা দেখেছি অনাবৃষ্টি। আমরা দেখেছি মাটি ক্ষয়, নদীর পাড় ভাঙন, ভুমি ধস। সম্প্রতিকালে কোভিড -১৯ র মতো মারণ থাবায় গোটা বিশ্ব আজ সিটিয়ে। আমরা দেখেছি প্রকৃতির ভয়ঙ্কর রূপ। আর প্রকৃতির এই রূদ্র রূপের কারন পরিবেশের প্রতি অত্যাচার। কোথাও নির্বাচারে গাছ কাটা চলছে। আবার কখনও আগুনের গ্রাসে জঙ্গল জ্বলতে দেখেছি। আর তাই সুস্থ পরিবেশের লক্ষ্যে, আজ সবুজয়ানের পথে নেমেছি।
‘সুরক্ষিত গাছ, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে অরোণ্যসপ্তাহে আমার পড়ুয়াদের নিয়ে সবুজ বাঁচানোর লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন,” পড়ুয়াদের মধ্যে বেশীরভাগই দুঃস্থ মেধাবী রয়েছে। তাই তাদের বাড়িতে লাগানোর জন্য মুল্যবান চারাগাছ দিয়েছি। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় ওই গাছের মুল্য আর্থিকভাবে সাহায্য করবে।”

রিজওয়ান মীর, সুহানা মীর, নাসরীন খাতুন,চুমকি খাতুন, আসমীন খাতুনের মতো খুদে পড়ুয়ারা দাবি, “আমাদের মত সকল স্কুলের পড়ুয়ারা এভাবে সচেতনতার প্রচারের পাশাপাশি বৃক্ষরোপনে এগিয়ে আসুক। পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশের গাছ রক্ষা করতে হবে।”
এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুর্ব বর্ধমানের দুর্গাপুর রেঞ্জের বন আধিকারিক তরুনকান্তি ব্যানার্জি। তিনি বলেন, “পড়ুয়াদের এই মহৎ কর্মসূচিতে আমি গর্বিত।” এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলামপুর হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক সুদর্শন চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, ‘পড়ুয়াদের বৃক্ষরোপনের কর্মসূচি খুব ভাল উদ্যোগ।” এছাড়াও ছিলেন স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি অসীম রায়।

