আমাদের ভারত,৪ সেপ্টেম্বর: উত্তাপ বাড়ছে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং-এ। এলএসি থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে প্যাংগং লেকের দক্ষিণের যুদ্ধ ট্যাংক নিয়ে এগিয়ে আসছে চিনাফৌজ। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে কালাটপের নিচে দিয়ে চুসুল ও থাকুং এলাকার দিকে এগিয়ে আসছে তারা বলে সেনা সূত্র খবর। প্রয়োজনে উত্তর দিতে তৈরি ভারত। সীমান্তে ভারতের টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্কও নিশানা দেগেই বসে রয়েছে।
প্যাংগং লেকের দক্ষিনে কালাটপ সহ একাধিক পাহাড়ি এলাকায় এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ফলে কালাটপ দখল নিতে না পেরে পাহাড়ি পাদদেশে নিজেদের যুদ্ধ ট্যাংক সাজাতে ব্যস্ত চিনা সেনা। মলডো থেকে হেভিওয়েট ট্যাঙ্কার সহ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসছে তারা, বলে দেখা গেছে।
প্যাংগং লেকের দক্ষিণ প্রান্তে উঁচু পাহাড়ি এলাকায় চিন ও ভারতের উভয় দেশের বাহিনী টহল দেয়। গত শনিবার সেখান দিয়েই ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে আসার চেষ্টা করেছিল লাল ফৌজ। তাদের লক্ষ্য ছিল কালাটপ ও হেলমেট দখল করা। কিন্তু ভারতীয় বাহিনীর সতর্ক থাকায় তাদের চেষ্টা রুখে দেওয়া গেছে।আর তারপরই চুসুলের কাছে ভারতের ট্যাংক রেজিমেন্ট প্রস্তুত হয়ে যায়। নিশানা স্থির করে বসে টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাংক। এইসব দেখেই চিনা বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এবার পাহাড়ি উপত্যাকায় নিজেদের সামরিক বহর বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে চিন। কিন্তু চিনা সেনাকে আটকাতে ভারত নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্তে সেনা সংখ্যা ব্যপক হারে বাড়ানো হয়েছে। কালাটপে টহল দিচ্ছে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। প্যাঙ্গং হ্রদ বরাবর টি-৯০ ভীষ্ম সহ একাধিক যুদ্ধ ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছে ভারত। চিনা রেজিমেন্টের দিকে রয়েছে এদের নিশানা।
লাদাখ নিকটস্থ তিব্বতের দুটি বায়ু সেনা ঘাঁটিতে চিনা যুদ্ধ বিমান ওঠানামা করতে দেখা গেছে। এই এয়ার বেস গুলি পূর্ব লাদাখের খুব কাছে। এখান থেকে বোমারু বিমান সীমান্তের কাছে মোতায়েন করেছে চিন। কিন্তু ভারতের সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে আজ জানিয়েছেন চিনকে আটকাতে সব রকম ভাবে প্রস্তুত ভারতীয় বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা থাকলেও ভারত তার নতুন সামরিক কৌশল নিয়ে তৈরি। এছাড়াও গোটা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে গেছেন বায়ুসেনা প্রধান। আকাশ সীমাকে সুরক্ষিত করতে ইতিমধ্যেই এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করেছে ভারত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার নিয়মিত চক্কর কাটছে ভারতীয় বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধ বিমান।

