পুরুলিয়া জেলা জুড়ে কর্মী সংকটে ধুঁকছে গ্রন্থাগার, আক্ষেপ গ্রন্থাগারিকদের

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩১ আগস্ট: পুরুলিয়া জেলা জুড়ে কর্মী সংকটে ধুঁকছে গ্রন্থাগারগুলি। গ্রন্থাগারের গুরুত্ব থাকলেও যথাযথ পরিকাঠামো গড়ে উঠেনি পুরুলিয়ায়। আজ সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গ্রন্থাগারিকদের বক্তব্যে সেই আক্ষেপের জায়গাটি ফুটে উঠল।

জেলায় মোট ১১৮ টি গ্রন্থাগার রয়েছে। গ্রন্থাগারিক রয়েছেন মাত্র ৪২ জন। যুগের সঙ্গে তাল রেখে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নেই গ্রন্থাগারগুলিতে। প্রায় ২৯টি গ্রন্থাগার বন্ধ রয়েছে শুধু মাত্র কর্মী ও গ্রন্থাগারিকের অভাবে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বইমেলাতে পাঠকদের বিশেষ করে নবীন প্রজন্মকে গ্রন্থাগার মুখী করে তুলতে প্রচার করা হয়। অথচ, উপযুক্ত পরিকাঠামোই নেই গ্রন্থাগারগুলিতে। জেলা গ্রন্থাগারিক দুটি জেলার দায়িত্বে রয়েছেন। এই অবস্থায় সাধারণ গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন হল পুরুলিয়ায়। জেলা গ্রন্থাগার থেকে একটি শোভা যাত্রা হল পুরুলিয়ায়। তার পর জেলাপরিষদের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ‘সাকসেসফুল রিডার’ ও ‘সিরিয়াস রিডার’দের সংবর্ধনা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ছিলেন না অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক তথা জেলা গ্রন্থাগারিক মার্শাল টুডু।

রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের উদ্যোগে দিনটি উদযাপন করছে স্থানীয় গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ। শোভাযাত্রায় সব শ্রেণির মানুষকে বই মুখী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অথচ, মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রন্থাগারগুলি, পরিষেবার জলাঞ্জলি দিয়েছে দফতর। এই অভিযোগ খোদ কর্মীদেরই। কিছু গ্রন্থাগারিক আর কর্মীর আন্তরিকতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠক উৎসাহ নিয়ে গ্রন্থাগারে যান বলে জানান তাঁরা। যদিও বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে জনশিক্ষা আধিকারিক সুমন চক্রবর্তি সহ বিশিষ্টজনদের।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকাল গ্রন্থাগার অথরিটির অন্যতম সদস্য তথা প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়া বলেন, “গ্রন্থাগারিকদের আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। স্থানীয় ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত সমিতি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে উন্নয়নের জন্য বলতে হবে। তাহলেই যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠবে আদর্শ লাইব্রেরও।”

লোকাল গ্রন্থাগার অথরিটির সদস্য অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, “সমস্যার মধ্যেও আমরা পাঠকদের সংখ্যা বাড়াতে সচেষ্ট।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *