মাদ্রাসা শিক্ষার নয়া ব্যবস্থা ও স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে সেভ এডুকেশন কমিটির চিঠি মুখ্যমন্ত্রীকে

আমাদের ভারত, ২২ মার্চ: মাদ্রাসা শিক্ষার নয়া ব্যবস্থা ও স্কুল ইউনিফর্ম নিয়ে মঙ্গলবার সেভ এডুকেশন কমিটি থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, “গত ১৬ মার্চ ২০২২ মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকার পোষিত, অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে “জেনে ও শেখা” (বাংলায় ই লার্নিং অ্যাপ) সংক্রান্ত যে নির্দেশনামা পাঠানো হয়েছে তার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নির্দেশনামায় বলা হয়েছে ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড নামক একটি সংস্থা উল্লিখিত অ্যাপের মাধ্যমে মাদ্রাসায় ইংরেজি, অংক এবং বিজ্ঞান শিক্ষা দেবে এবং মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকাদের তাদের এই প্রকল্প রূপায়ণে প্রয়োজনীয় সাহায্য প্রদান করতে হবে। আমরা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রেমী মানুষের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনামায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ না করে পারছি না।

প্রথমত, অনলাইন ডিজিটাল শিক্ষা কখনই প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার সঙ্গে কোনওরূপ সম্পর্কহীন বাণিজ্যিক সংস্থাকে দিয়ে তৈরি একটি অ্যাপের মাধ্যমে এই শিক্ষাদান রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধিকারের উপর হস্তক্ষেপ। তৃতীয়ত, এর ব্যয়ভার ছাত্র-ছাত্রীদের বহন করতে হবে কিনা বা কতটা বহন করতে হবে তা এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। চতুর্থত, আমরা মনে করি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য মনুষ্যত্ব ও চরিত্র গঠন। তা কখনই একটি বাণিজ্যিক সংস্থা দ্বারা পূরিত হতে পারে না। সর্বোপরি আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র মাধ্যমে এইভাবে ডিজিট্যাল শিক্ষাকে প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প হিসেবে উপস্থাপিত করতে চাইছে যা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার পরিপন্থী শুধু নয় তা তাদের ডিজিটালি ডিভাইড করবে এবং ধনী-গরিবের ক্ষেত্রে শিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় তারতম্য সৃষ্টি করবে।

এমতাবস্থায় আমরা শিক্ষার সর্বজনীনতার স্বার্থে ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রাখতে এই বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি করছি।

প্রসঙ্গক্রমে আরও একটি বিষয়ের আমরা উল্লেখ করতে চাই। সম্প্রতি সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে একটি বিশেষ রঙের ইউনিফর্মের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির বৈচিত্র্য ও স্বাধিকারের পরিপন্থী। রাজ্যের বহু ঐতিহ্যপূর্ণ বিদ্যালয় আছে যাদের স্কুল ইউনিফর্ম তাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক গর্ব ও ঐতিহ্য বহন করছে। কেন্দ্রীয় সরকারও চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এমন করেই সারা দেশে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈচিত্র হরণ করতে চাইছে – যা সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা এই সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানাচ্ছি।”
 
চিঠিতে সই করেছেন সংগঠনের সভাপতি চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী ও সম্পাদক তরুণকান্তি নস্কর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *