ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার থাকবে কিনা সেটাই দেখার: দিলীপ ঘোষ

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৭ সেপ্টেম্বর: শুধু ডাকাডাকি করলে হবে না সাজা দিতে হবে, না হলে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করবে কি করে? ভোট পরবর্তী হিংসায় সিবিআই তদন্ত নিয়ে ফের সরব হয়ে এই কথাই বললেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবার প্রাতভ্রমনের পর তারাপীঠে চা চক্রে অংশগ্রহণ করলেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সকাল ছ’টা নাগাদ তারাপীঠ এলাকায় দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রাতঃভ্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। এরপর তারাপীঠ পূর্বসাগর মোড়ে একটি চায়ের দোকানে বসে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি চা খান।

এদিন চা চক্র শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বাবু অনুব্রত মন্ডলের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বলেন, “নিজের নামে সম্পত্তি নেই মানেই সম্পত্তি নেই এমনটা নয়। উনি যা বলছেন তা কোর্টে প্রমাণ করতে হবে। আর গ্রেফতার হলেই সবাই বলে রাজনৈতিক চক্রান্ত।

অন্যদিকে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় আগেই সিবিআইয়ের উপর আস্থা হারিয়ে মুখ খুলেছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর তারপর থেকেই রাজ্য জুড়ে সিবিআইয়ের বেশ কয়েকটি মুভমেন্ট দেখা গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে ডাকাও হয়েছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, “শুধু ডাকাডাকি করলে হবে না সাজা দিতে হবে। না হলে মানুষ বিশ্বাস করবে কি করে। দুষ্কৃতীরা খুন করে দেবে, দেশে কোনো আইন নেই, সাজা নেই। সেটা করে দেখাতে হবে”।

সিবিআইয়ের ভয়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন মন্ত্রীরা। এলাকা ছাড়া হচ্ছেন নেতারা। তাহলে সরকারটা চলাবে কে? বুধবার সন্ধ্যায় রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড়ে এমনই প্রশ্ন তুললেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই সরকারটা ভেঙে যাবে। শুধু মন্ত্রী, বিধায়কদের নয়, সেই সময় যে সমস্ত জেলা শাসক কিংবা পুলিশ সুপাররা ছিলেন তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত সিবিআইয়ের”। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, “গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে দেয়নি। অনুব্রত মণ্ডলের উন্নয়ন বাহিনী বোমা, গুলি নিয়ে আমাদের মনোনয়নে বাধা দিয়েছিল। এবার অনুব্রত জেলে। দেখব কার কত কব্জির জোর”।

এদিন বিকেলে রামপুরহাট শ্রীফলা মোড় থেকে একটি পদযাত্রা বের করা হয়। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযানের সমর্থনে এই পদযাত্রায় হাঁটেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। পদযাত্রায় একটি গাড়ির মধ্যে কাল্পনিক জেলখানা তৈরি করে দুজনকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডল সাজিয়ে রাখা হয়। একটি টোটোতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোশ পরিয়েও পদযাত্রায় শহর ঘোরানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *