শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ৭ জুলাই:
মা কালীকে নিয়ে যেটা হচ্ছে সেটা অন্যায়। এমনই মন্তব্য করেছেন মহাকাব্য বিশেষজ্ঞ নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী। তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে বারবার কুৎসা করা মানুষদের। বলেছেন, হিন্দু বলেই এরা এটা করতে পারছেন। অন্য ধর্মের হলে পারতেন না। একইসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন সনাতন হিন্দু ধর্মে মা কালীর অবস্থান। বুঝিয়েছেন, হিন্দুদের সাথে কতটা মারাত্মক আবেগ জড়িয়ে রয়েছে মা কালী’কে নিয়ে। সেই ভাবাবেগে আঘাত করার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী।
একটি সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী তীব্র বিরোধিতা করেছেন মা কালীকে অন্যরূপে দেখানোর জন্য। তিনি বলেন, মা কালী দেবী দুর্গার প্রতিরূপ। মা কালীর জন্ম হয়েছে দেবী দুর্গার শরীরের কোষ চর্ম থেকে। তাই তাঁকে কৌশিকী কালীও বলা হয়। স্বয়ং উমা প্রথমে কালী রূপী ছিলেন। কালোই ছিলেন। তবে কৌশিকী কালীর রূপ কিছুটা ভিন্ন ছিল। মা কালীর বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে মূলত শাঙ্খ সাংখ্য দর্শন অনুসারে।
এরপরই নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীকে প্রশ্ন করা হয় মা কালীর মুখে সিগারেট তুলে দেওয়া হয়েছে তাকে ধূমপান করানো হচ্ছে, এতে কি দেবীর মাহাত্ম্য নষ্ট করা বলে তিনি মনে করেন? রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অবশ্যই মা কালীর মাহাত্ম্যকে ছোট করা হয়েছে। মা কালীকে তুচ্ছ করে দেওয়া হচ্ছে। যারা এটা করেছে তারা ভারতবর্ষের লোক বলেই করতে পারেছেন। হিন্দু বলেই এটা করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, দেবতার উপাসনা করতে করতে তার সঙ্গে আমাদের প্রিয়ত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। গীতা থেকে শ্লোক উধৃত করে তিনি বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজের উজ্জ্বল রূপ যখন দর্শন করান অর্জুনকে তখন কুন্তী পুত্র ভগবানের ওই বিরাট রূপ সহ্য করতে পারেননি, বাধ্য হয়ে অর্জুন কৃষ্ণকে সৌম্য হতে বলেন এবং তিনি প্রার্থনা করে পিতার কাছে পুত্রের, বন্ধুর কাছে বন্ধুর যেমন সরল-সহজ সম্পর্ক থাকে সেই সম্পর্ক কৃষ্ণের কাছে আশা করেন অর্জুন। নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী বলেন, ঠিক সেই রকমই সব দেবতার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে মা কালীর সম্পর্ককেই দেখো, কখনো তিনি তাঁকে খাবার খাওয়াচ্ছেন কখনো তিনি তাকে শাস্তি দিচ্ছেন। এই যে এক বিরাট ভাবের জগত সেই ভাবকে, সেই আবেগকে এই রকম নোংরামি দিয়ে প্রকাশ করা মারাত্মক অপরাধ। তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, শুধু হিন্দুধর্ম বলেই এই রকম কাজ করে এখনো বেঁচে আছেন এরা। অন্য কোনও ধর্ম নিয়ে এমন করে দেখুন না একবার। যারা এটা করেছেন তারা সস্তা প্রচারের জন্য করছেন। যা হচ্ছে সেটা অন্যায়।

