রাজেন রায়, কলকাতা, ১৬ মার্চ: মুখ্যমন্ত্রীর পা’য়ে আদৌ চোট লেগেছে নাকি পুরোটাই সাজানো নাটক, তা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী আহত হওয়ার পর হাসপাতালে প্রথমে প্লাস্টার হলেও পরে তাতে ক্রেপ ব্যান্ডেজে দেখা যায়। একদিনের মধ্যে প্লাস্টার থেকে ক্রেপ ব্যান্ডেজ কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। তারপর ফের তার পায়ে দেখা যায় প্লাস্টার। এবার মুখ্যমন্ত্রীর পায়ের এক্সরে রিপাের্ট বাংলার মানুষের সামনে আনার দাবি জানালেন অধীর চৌধুরী।
মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “ভােটের আগে হুইল চেয়ারে করে প্রচারে গিয়ে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণভাবে ওরা জিতবেন না বুঝে গিয়েছেন। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছিল, পরে বললেন, আমার ধাক্কা লেগেছে। হামলা থেকে ধাক্কায় রূপান্তরিত হতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হাসপাতাল থেকে একদিন পরে ছুটি দেওয়া মানে খুবই সামান্য আঘাত লাগা। এই সমস্ত সাজানাে নাটক মমতার। উনি ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই প্লাস্টার খুলবেন না।”
১০ মার্চ সকালে হলদিয়ায় গিয়ে মনােনয়নপত্র জমা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বিকেলে নন্দীগ্রামে ফিরে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে ঘুরে পুজো দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সন্ধ্যায় তিনি নন্দীগ্রাম দু’নম্বর ব্লকে রেয়াপাড়ায় শিব মন্দিরে গিয়েছিলেন। পরে গাড়িতে করেই প্রচার চালাচ্ছিলেন। সেই সময়েই আহত হন তিনি। তারপরেই তাঁকে মারা হয়েছে বলে অভিযােগ করেছিলেন। পরে অবশ্য সেই বক্তব্য থেকে সরে আসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে না পারায় নিরাপত্তা অধিকর্তা বিবেক সহায়কে সরিয়ে জ্ঞানবন্ত সিং কে নিয়ে আসে নির্বাচন কমিশন।

