সোমনাথ বরাট, আমাদেৱ ভারত, বাঁকুড়া, ২৯ জুলাই: করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবিতে আজ সকালে বাঁকুড়া স্টেশনে বিক্ষোভ দেখিয়ে বামপন্থী সংগঠন গুলির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। সিটু, এআইটিইউসি, ফরোয়ার্ড ব্লক ও কংগ্রেসের আইএনটিইউসি এই বিক্ষোভে সামিল হয়।
সিটু নেতা প্রতীপ মুখার্জি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার “লাইফ লাইন” হচ্ছে রেল পরিবহণ বা রেল যোগাযোগ। অথচ অতিমারিজনিত কারণ দেখিয়ে মাসের পর মাস লোকাল ট্রেন কার্যত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রী, রেল হকার সবাইকেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে এক অসহনীয় অবস্থার দিকে। কাজ হারিয়েছেন শত শত রিকশা, টোটো ও ট্যাক্সি চালক। খদ্দেরের অভাবে ধুঁকছেন স্টেশন রোডের ব্যাবসদারেরা। কয়েকটি এক্সপ্রেস ট্রেন চালানো হচ্ছে স্পেশাল ট্রেনের তকমা দিয়ে। পাশাপাশি চলছে গড়বেতা-রাঁচি ও খড়্গপুর-আসানসোলগামী মাত্র দুটি লোকাল ট্রেন। সাধারণ মানুষকে এর ফলে শুধুমাত্র দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাই না, যাতায়াতের জন্য খরচ করতে হচ্ছে অনেক অনেক বেশি গাঁটের কড়ি।

এদিন বাঁকুড়া রেল স্টেশনে বিভিন্ন শ্রমিক ও যুব সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং
আদ্রা-খড়্গপুর সেকশনে প্রতিটি লোকাল ট্রেন সহ টাইম টেবিলে ঘোষিত প্রতিটি ট্রেন অবিলম্বে চালু,
বর্তমানে চালু থাকা ট্রেনগুলিতে প্রচলিত ভাড়ার উপর লাগু করা বাধ্যতামূলক রিজার্ভেশন ফি/বর্ধিত ফি এবং প্ল্যাটফর্ম টিকিট ও রেলের খাবারের উপর লাগু করা বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
এই দাবিগুলি অবিলম্বে পূরণ করার দাবি জানিয়ে সিআইটিইউ নেতা প্রতীপ মুখার্জির নেতৃত্বে সাত জনের এক প্রতিনিধি দল দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা বিভাগের ম্যানেজারের উদ্দেশ্যে দেওয়া স্মারকলিপি বাঁকুড়া স্টেশন ম্যানেজারের হাতে তুলে দেন।
বিক্ষোভ সভায় বক্তারা খেদের সাথে জানান, ভোট হতে পারবে, উপ-নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা যাবে, মেট্রো রেল চালানো যাবে, উপচে পড়া যাত্রী নিয়ে স্পেশাল ট্রেন চালানো যাবে, শপিং মল, মেলা চালু রাখা যাবে অথচ লোকাল ট্রেন চললেই সংক্রমণ বেড়ে যাবে এ যুক্তি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে আদ্রা-খড়্গপুর সেকশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করে তোলা না হলে জনস্বার্থেই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ খোলা থাকবে না বলে বক্তারা দ্ব্যার্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন। বিক্ষোভ সভায় প্রতীপ মুখার্জি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কিংকর পোশাক (সিআইটিইউ), ভাস্কর সিনহা(এআইটিইউসি), গঙ্গা গোস্বামী(ইউটিইউসি), ধর্মেন্দ্র সিং(ডিওয়াইএফআই), অভিষেক বিশ্বাস (আইএনটিইউসি), অনাথ মল্ল(টিইউসিসি) ও জয় হালদার(এআইওয়াইএফ)।

