আমাদের ভারত, ১৩ ফেব্রুয়ারি: পাঁচ বছর আগেই ত্রিপুরার জনগণ চাঁদা ও ঝাণ্ডাবাজিকে রেড কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। এবারেও তারা একই কাজ করবেন।সোমবার ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার জনসভা থেকে এমনটাই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, বামেরা রাজ্যের জনগণকে নিজেদের ভৃত্য বা চাকর মনে করতেন। আজ শুধু জনসভাই নয়, মোদী ত্রিপুরাতে একটি রোড শোও করেন।
মোদী সোমবার নিজের বক্তব্যে বদল ও বদলা রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার দাবি, পাঁচ বছর আগে ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখলের পর বদলা নয় বদলের রাজনীতি করে দেখিয়েছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, ২০১১-র পশ্চিমবঙ্গের ভোটের সময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলা নয় বদলাই স্লোগান তুলেছিলেন। মনে করা হচ্ছে মোদী এই বক্তব্য তৃণমূলকেও নিশানা করেছে।
১৯৯৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ত্রিপুরায় বাম শাসন চলেছে। মোদীর অভিযোগ, সেই সময় ত্রিপুরায় ভয়ের পরিবেশ ছিল। মোদী বলেন, বিজেপি সরকার গড়ার পরেই ত্রিপুরায় উন্নয়নের সাথে ভয় মুক্ত পরিবেশ গড়তে সমর্থ হয়েছে। তাই ত্রিপুরার মানুষকে ত্রিপুরার স্বার্থেই বিজেপিকে ভোট দিতে হবে।
আজ মোদী শুধু বামেদেরকেই নয়, এদিন কংগ্রেসকেও নিশানা করেন। তার অভিযোগ, আশির দশকের শেষ এবং ৯০ দশকের গোড়ায় কংগ্রেসের শাসনে ত্রিপুরাকে অরাজকতা ও দুর্নীতি গ্রাস করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা কর্মসূচি রূপায়ণের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, যারা এখনো পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় পাকা বাড়ি পাননি, রাজ্যে পরবর্তী বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পরেই তারা সেটা পেয়ে যাবেন। একইসঙ্গে ত্রিপুরায় বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, ডেন্টাল কলেজ এবং আধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এবারের ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচনের ইশতেহারে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বালিকা সমৃদ্ধি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে জন্মানো কন্যা সন্তানের জন্য ৫০ হাজার টাকার বন্ড দেওয়া হবে।
৬০টি আসনে ত্রিপুরার বিধানসভার ভোট হবে আগামী বৃহস্পতিবার। ২ মার্চ হবে ভোট গণনা।

